ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায় কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু

বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকার প্রকল্পে কাটছে পাহাড়ি পানির সংকট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় ৬০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, গভীর নলকূপ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং) ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে 'পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই ও সমন্বিত পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প'-এর অধীনে বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্যক্রম চলছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর মেয়াদী এই প্রকল্পে ৬৬৭টি নতুন হাউসহোল্ড টয়লেট নির্মাণ, ৮৬৭টি টয়লেটের উন্নয়ন এবং পাঁচটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া আটটি পাবলিক টয়লেট সংস্কারসহ বান্দরবান ও লামা পৌরসভায় আরও প্রায় ২০০টি টয়লেট নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি ছিল চরমে। সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা সাগর ও হাফেজঘোনার বাসিন্দা কামাল জানান, নতুন স্যানিটেশন সুবিধার ফলে এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমছে।

অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় 'বান্দরবানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প' শিরোনামে আরও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পুরোনো জিএফএস মেরামত, ১০টি নতুন জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, ৫০টি গভীর নলকূপ ও ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সহজলভ্যতা কম হওয়ায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালুকদার পাড়ার বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি মংক্য প্রু মার্মা জানান, আগে পানি সংগ্রহের জন্য অনেক দূর পথ পাড়ি দিতে হতো, এখন এলাকায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হওয়ায় সময় ও শ্রম সাশ্রয় হচ্ছে। রোয়াজা পাড়ার বাসিন্দা হ্নাক্রা মার্মা জানান, বয়স্ক মানুষসহ সবাই এই সুবিধার ফলে উপকৃত হচ্ছেন। জেলার টিএন্ডটি পাড়া, হাফেজঘোনা, নিউগুলসান, হাসপাতাল এলাকা, সিদ্দিকনগর, সুয়ালক ও হলুদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব অবকাঠামো স্থাপনের ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানিয়েছেন, চাহিদার ভিত্তিতে এসব অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও দুর্গম এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি বিনিয়োগের সুফল ধরে রাখতে এসব স্থাপনার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকার প্রকল্পে কাটছে পাহাড়ি পানির সংকট

আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় ৬০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, গভীর নলকূপ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং) ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে 'পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই ও সমন্বিত পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প'-এর অধীনে বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্যক্রম চলছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর মেয়াদী এই প্রকল্পে ৬৬৭টি নতুন হাউসহোল্ড টয়লেট নির্মাণ, ৮৬৭টি টয়লেটের উন্নয়ন এবং পাঁচটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া আটটি পাবলিক টয়লেট সংস্কারসহ বান্দরবান ও লামা পৌরসভায় আরও প্রায় ২০০টি টয়লেট নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি ছিল চরমে। সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা সাগর ও হাফেজঘোনার বাসিন্দা কামাল জানান, নতুন স্যানিটেশন সুবিধার ফলে এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমছে।

অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় 'বান্দরবানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প' শিরোনামে আরও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পুরোনো জিএফএস মেরামত, ১০টি নতুন জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, ৫০টি গভীর নলকূপ ও ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সহজলভ্যতা কম হওয়ায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালুকদার পাড়ার বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি মংক্য প্রু মার্মা জানান, আগে পানি সংগ্রহের জন্য অনেক দূর পথ পাড়ি দিতে হতো, এখন এলাকায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হওয়ায় সময় ও শ্রম সাশ্রয় হচ্ছে। রোয়াজা পাড়ার বাসিন্দা হ্নাক্রা মার্মা জানান, বয়স্ক মানুষসহ সবাই এই সুবিধার ফলে উপকৃত হচ্ছেন। জেলার টিএন্ডটি পাড়া, হাফেজঘোনা, নিউগুলসান, হাসপাতাল এলাকা, সিদ্দিকনগর, সুয়ালক ও হলুদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব অবকাঠামো স্থাপনের ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানিয়েছেন, চাহিদার ভিত্তিতে এসব অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও দুর্গম এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি বিনিয়োগের সুফল ধরে রাখতে এসব স্থাপনার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh