ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন

ঝালকাঠিতে ৮ মাসের সন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় নিজের আট মাস বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী এলাকার লিপি বেগম নামের এক নিঃসন্তান নারীর কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত বাবার নাম সোহাগ হাওলাদার (৪৩) এবং মায়ের নাম আলো আক্তার। তাদের আট মাস বয়সী ওই শিশুটির নাম রুম্মান হাওলাদার। তবে টাকা নিয়ে সন্তান বিক্রির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাবা সোহাগ। তার দাবি, শিশুটিকে বিক্রি করা হয়নি, বরং ভালোমতো লালন-পালন করার জন্য এক আত্মীয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ হাওলাদার আগে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সেখানে থাকা অবস্থায় প্রায় ১০ বছর আগে শরীয়তপুরের আলো আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই দম্পতির সংসারে আলীফ হাওলাদার (১০) ও আরিফ হাওলাদার (৫) নামের আরও দুটি ছেলে রয়েছে। রুম্মান তাদের তৃতীয় সন্তান।

শিশুটির ফুফু পারভিন বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট ভাই সোহাগ ও ভাইয়ের স্ত্রী মিলে শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে লালন-পালন করতে যদি কোনো সমস্যা হতো, তবে আমাদের জানানো উচিত ছিল। আমরাই তার দায়িত্ব নিতাম। কিন্তু এভাবে সন্তানকে বিক্রি করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানান।

এদিকে শিশুটির মা আলো আক্তারও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসঙ্গে তিন সন্তানকে লালন-পালন করতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে ভালো রাখার উদ্দেশ্যে এক আত্মীয়ের কাছে শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. শাহিন খান জানান, তিনি শিশু বিক্রির খবরটি শুনেছেন। যদি সত্যিই শিশুটিকে বিক্রি করা হয়ে থাকে, তবে কাজটি অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে। বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন। প্রকৃতপক্ষে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে নাকি লালন-পালনের জন্য দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝালকাঠিতে ৮ মাসের সন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:২৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় নিজের আট মাস বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী এলাকার লিপি বেগম নামের এক নিঃসন্তান নারীর কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত বাবার নাম সোহাগ হাওলাদার (৪৩) এবং মায়ের নাম আলো আক্তার। তাদের আট মাস বয়সী ওই শিশুটির নাম রুম্মান হাওলাদার। তবে টাকা নিয়ে সন্তান বিক্রির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাবা সোহাগ। তার দাবি, শিশুটিকে বিক্রি করা হয়নি, বরং ভালোমতো লালন-পালন করার জন্য এক আত্মীয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ হাওলাদার আগে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সেখানে থাকা অবস্থায় প্রায় ১০ বছর আগে শরীয়তপুরের আলো আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই দম্পতির সংসারে আলীফ হাওলাদার (১০) ও আরিফ হাওলাদার (৫) নামের আরও দুটি ছেলে রয়েছে। রুম্মান তাদের তৃতীয় সন্তান।

শিশুটির ফুফু পারভিন বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট ভাই সোহাগ ও ভাইয়ের স্ত্রী মিলে শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে লালন-পালন করতে যদি কোনো সমস্যা হতো, তবে আমাদের জানানো উচিত ছিল। আমরাই তার দায়িত্ব নিতাম। কিন্তু এভাবে সন্তানকে বিক্রি করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানান।

এদিকে শিশুটির মা আলো আক্তারও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসঙ্গে তিন সন্তানকে লালন-পালন করতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে ভালো রাখার উদ্দেশ্যে এক আত্মীয়ের কাছে শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. শাহিন খান জানান, তিনি শিশু বিক্রির খবরটি শুনেছেন। যদি সত্যিই শিশুটিকে বিক্রি করা হয়ে থাকে, তবে কাজটি অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে। বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন। প্রকৃতপক্ষে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে নাকি লালন-পালনের জন্য দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh