ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের রশি টানাটানিতে ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ আটঘরিয়ায় দেড় লাখ তালের বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসায় হামলার প্রতিবাদে রংপুরে বিক্ষোভ ইস্তাম্বুলে ইয়ামালের ম্যাজিকে গ্যালাতাসারাইকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ টেস্ট ইতিহাসে অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়লেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস সিরাজগঞ্জে পূজার কেনাকাটায় সরগরম মার্কেট ও ফুটপাত গুমানি নদীতে বৈঠার ছন্দে মাতল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অ্যাটলেটিকোর কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগে ধুঁকছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মোদি শাসনের কি শেষ শুরু? রাজপথে উত্তাল ভারত

অস্তিত্ব সংকটে কুতুবদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন, হুমকির মুখে উপকূলীয় নিরাপত্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ একটি অঞ্চল। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে চতুর্দশ শতাব্দীর শেষে জেগে ওঠা এই দ্বীপে পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ থেকে মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেঁচে থাকা দ্বীপবাসীর জন্য ম্যানগ্রোভ বন দীর্ঘকাল ধরে একটি প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আসছে। এই বন উপকূলের মাটি আঁকড়ে ধরে ভাঙন রোধের পাশাপাশি ঢেউয়ের শক্তি কমিয়ে দ্বীপকে সুরক্ষা দেয়।

একসময় কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে এই ম্যানগ্রোভ বনের বিশাল প্রাচীর ছিল। কয়েক দশক আগেও ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে প্রায় ১ হাজার ২০০ একর ম্যানগ্রোভ বন ছিল। তবে গত তিন দশকে এই সুরক্ষাপ্রাচীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। মূলত লবণ চাষের মাঠ তৈরির জন্য গত ৩০ বছরে ৯০০ একর ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করা হয়েছে। মে ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে আলী আকবর ডেইল ইউপির আনিচের ডেইল, বড়ঘোপ ইউপির অমজাখালী ও আজম কলোনী, লেমশীখালী ইউপির গাইনেকাটা এবং উত্তর ধুরুং ইউপির আকবরবলী ঘাট এলাকায় মাত্র ২০০ একর ম্যানগ্রোভ বন দৃশ্যমান, যা এখন আগ্রাসী লবণ চাষের কারণে নতুন করে হুমকির সম্মুখীন।

কুতুবদিয়া বন দপ্তরের কর্মকর্তা আবদু রাজ্জাক জানান, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, লবণ চাষের বিস্তার এবং জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারণে ম্যানগ্রোভের পরিমাণ ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে বনটিতে শুধু গেওয়া, কেওড়া ও বাইন প্রজাতির গাছ দেখা গেলেও অন্যান্য প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বন বিভাগ নতুন করে ২০০ একর ম্যানগ্রোভ সৃজনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের ফলে দ্বীপের বেড়িবাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙা বাঁধ সংস্কারে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও দুর্নীতির কারণে তা টেকসই হচ্ছে না। অন্যদিকে লবণের লোভে লোকজন ম্যানগ্রোভ বনের দিকে হামলে পড়ছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, উপকূলের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই বন সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। তারা বন রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ম্যানগ্রোভ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের উপকূল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্তিত্ব সংকটে কুতুবদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন, হুমকির মুখে উপকূলীয় নিরাপত্তা

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ একটি অঞ্চল। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে চতুর্দশ শতাব্দীর শেষে জেগে ওঠা এই দ্বীপে পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ থেকে মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেঁচে থাকা দ্বীপবাসীর জন্য ম্যানগ্রোভ বন দীর্ঘকাল ধরে একটি প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আসছে। এই বন উপকূলের মাটি আঁকড়ে ধরে ভাঙন রোধের পাশাপাশি ঢেউয়ের শক্তি কমিয়ে দ্বীপকে সুরক্ষা দেয়।

একসময় কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে এই ম্যানগ্রোভ বনের বিশাল প্রাচীর ছিল। কয়েক দশক আগেও ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে প্রায় ১ হাজার ২০০ একর ম্যানগ্রোভ বন ছিল। তবে গত তিন দশকে এই সুরক্ষাপ্রাচীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। মূলত লবণ চাষের মাঠ তৈরির জন্য গত ৩০ বছরে ৯০০ একর ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করা হয়েছে। মে ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে আলী আকবর ডেইল ইউপির আনিচের ডেইল, বড়ঘোপ ইউপির অমজাখালী ও আজম কলোনী, লেমশীখালী ইউপির গাইনেকাটা এবং উত্তর ধুরুং ইউপির আকবরবলী ঘাট এলাকায় মাত্র ২০০ একর ম্যানগ্রোভ বন দৃশ্যমান, যা এখন আগ্রাসী লবণ চাষের কারণে নতুন করে হুমকির সম্মুখীন।

কুতুবদিয়া বন দপ্তরের কর্মকর্তা আবদু রাজ্জাক জানান, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, লবণ চাষের বিস্তার এবং জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারণে ম্যানগ্রোভের পরিমাণ ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে বনটিতে শুধু গেওয়া, কেওড়া ও বাইন প্রজাতির গাছ দেখা গেলেও অন্যান্য প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বন বিভাগ নতুন করে ২০০ একর ম্যানগ্রোভ সৃজনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের ফলে দ্বীপের বেড়িবাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙা বাঁধ সংস্কারে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও দুর্নীতির কারণে তা টেকসই হচ্ছে না। অন্যদিকে লবণের লোভে লোকজন ম্যানগ্রোভ বনের দিকে হামলে পড়ছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, উপকূলের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই বন সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। তারা বন রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ম্যানগ্রোভ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের উপকূল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh