ধর্মঘট প্রত্যাহার, শনিবার থেকে সচল হচ্ছে হিলি স্থলবন্দর
- আপডেট সময় : ০১:২২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের এক সফল বৈঠকের পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও নানা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ তুলে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যকলাপে স্থবিরতা নেমে আসে এবং বন্দরের শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা তাদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
বিকাশ মণ্ডল আরও জানান, গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বালুরঘাট সফরকালে এক প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। তখন মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।
এদিকে বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল জানান, ভারতের বালুরঘাটে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তবে বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখনো তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এই আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্য দিন দিন কমে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি বন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে এবং শত শত ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ অন্যান্য বন্দর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য চলছে।
বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা এই ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দুই দেশের স্থলবাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ভারতের বালুরঘাটে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের বিষয়টি তারা জেনেছেন।




























