ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ

সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক পারাপারে শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম ঝুঁকি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে রাস্তা পার হতে হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের। দ্রুতগতির যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে এই ব্যস্ত মহাসড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে আসা সেবাগ্রহীতাদের জন্য এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে সীতাকুণ্ডের পৌর সদর, বড় বাজার, কুমিরা ও বাড়বকুণ্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল থাকলেও নিরাপদ পারাপারের জন্য কোনো কার্যকর জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভারব্রিজ নেই। ফলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের বুক কাঁপানো ভয় নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে দ্রুতগতির গাড়ির নিচে পিষ্ট হওয়ার শঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছেন তারা।

এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত সুলতানা। তিনি জানান, প্রতিদিন ক্লাসে আসার সময় মহাসড়ক পার হতে তাদের বুক কেঁপে ওঠে। বেপরোয়া গতির গাড়িগুলোর সামনে কোনো বড় ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।

একই ধরনের ভোগান্তি ও বিপদের কথা তুলে ধরেন বড় দারোগারহাট এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম। সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিজের অসুস্থ বাবাকে নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, কোনো সিগন্যাল না থাকায় এবং চালকরা গাড়ি থামাতে না চাওয়ায় রোগীকে নিয়ে রাস্তা পার হতে প্রায় পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। মুমূর্ষু রোগীকে কোলে বা স্ট্রেচারে করে এভাবে পার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্কুল ও হাসপাতালের সামনে পারাপারের এই ঝুঁকির বিষয়টি তারা জানেন। দুর্ঘটনা এড়াতে ও গতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া জনবহুল পয়েন্টগুলোতে গতিরোধক ও ফুটওভারব্রিজ দ্রুত স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন。

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল আশ্বাস বা দুর্ঘটনার পর সাময়িক তৎপরতায় এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ব্যস্ততম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সামনে অবিলম্বে আধুনিক ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ এবং কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক পারাপারে শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে রাস্তা পার হতে হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের। দ্রুতগতির যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে এই ব্যস্ত মহাসড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে আসা সেবাগ্রহীতাদের জন্য এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে সীতাকুণ্ডের পৌর সদর, বড় বাজার, কুমিরা ও বাড়বকুণ্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল থাকলেও নিরাপদ পারাপারের জন্য কোনো কার্যকর জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভারব্রিজ নেই। ফলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের বুক কাঁপানো ভয় নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে দ্রুতগতির গাড়ির নিচে পিষ্ট হওয়ার শঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছেন তারা।

এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত সুলতানা। তিনি জানান, প্রতিদিন ক্লাসে আসার সময় মহাসড়ক পার হতে তাদের বুক কেঁপে ওঠে। বেপরোয়া গতির গাড়িগুলোর সামনে কোনো বড় ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।

একই ধরনের ভোগান্তি ও বিপদের কথা তুলে ধরেন বড় দারোগারহাট এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম। সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিজের অসুস্থ বাবাকে নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, কোনো সিগন্যাল না থাকায় এবং চালকরা গাড়ি থামাতে না চাওয়ায় রোগীকে নিয়ে রাস্তা পার হতে প্রায় পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। মুমূর্ষু রোগীকে কোলে বা স্ট্রেচারে করে এভাবে পার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্কুল ও হাসপাতালের সামনে পারাপারের এই ঝুঁকির বিষয়টি তারা জানেন। দুর্ঘটনা এড়াতে ও গতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া জনবহুল পয়েন্টগুলোতে গতিরোধক ও ফুটওভারব্রিজ দ্রুত স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন。

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল আশ্বাস বা দুর্ঘটনার পর সাময়িক তৎপরতায় এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ব্যস্ততম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সামনে অবিলম্বে আধুনিক ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ এবং কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin