জামালপুরে বাস ভাঙচুরের ঘটনায় কর্মবিরতি, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বুধবার রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ভাঙচুর, চালক ও সহকারীদের মারধর এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, মহাসড়কে চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা গাড়ি চালাবেন না।
এই কর্মবিরতির ফলে জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে এসে শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের খোঁজে ছুটছেন। ঢাকাগামী যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি ঢাকা যাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। রোগী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দায় রাজীব পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকের ওপর উল্টে গেলে চারজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এরপর ২ সেপ্টেম্বর সকালে নান্দিনা বাজার এলাকায় স্থানীয় ছাত্র-জনতার ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে উত্তেজিত জনতা রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ভাঙচুর চালায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, এ সময় হামলাকারীরা তাদের মারধর করে নগদ টাকাও ছিনিয়ে নিয়েছে।
জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আমিমুল ইহসান ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় জামালপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই কর্মসূচি ও ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাজীব পরিবহনের চালক মিলন আহমেদ জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের পক্ষে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























