ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়ার জ্বালানি তথ্যে পুতিনের কড়াকড়ি সৌদি আরবে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির নতুন ওটিটি নাটক ‘চেক আউট’-এ শিমুল-লামিমা জুটি কুড়িগ্রামে তথ্য অধিকার দিবসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর সংকটাপন্ন ঋণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা, নীতি শিথিলের সমালোচনা মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে যাওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা খামেনি কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, মঙ্গলবার জবাবের আশা আরাগচির নলছিটিতে গাছ না লাগিয়েই ১৮ হাজার বৃক্ষরোপণের ভুয়া প্রতিবেদন সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, আশ্বস্ত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের সীমান্ত বাজারে রিভলবার ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

শঙ্খধ্বনিতে মুখর ঢেপা নদী, নৌযাত্রায় কান্তজিউ বিগ্রহের যাত্রা শুরু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভোরের স্নিগ্ধ আলো আর শঙ্খ-ঘণ্টার ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের কাহারোলের কান্তনগর মন্দির প্রাঙ্গণ। কীর্তনের সুর আর ভক্তদের প্রার্থনায় এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে। পূজা-অর্চনা শেষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরেক রূপ ‘কান্তজিউ বিগ্রহ’কে নিয়ে ভক্তরা যাত্রা শুরু করেছেন ঢেপা নদীর কান্তনগর ঘাটের দিকে। কারও হাতে ফুল, আবার কারও হাতে প্রদীপ—সবার চোখেমুখে ভক্তি ও আনন্দের এক অনন্য সংমিশ্রণ।

প্রায় ২৭৪ বছর ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তজিউ বিগ্রহ কাহারোল থেকে নদীপথে যাত্রা করে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে তিন মাস অবস্থানের পর রাসপূর্ণিমার দিনে বিগ্রহকে পুনরায় কান্তনগরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যায় নৌযাত্রাটি পুনর্ভবা নদীর সাধুর ঘাটে গিয়ে থামবে। নদীর দুই তীরে উপস্থিত ভক্তদের শ্রদ্ধা আর নৌকার বহর যেন এক ভাসমান উৎসবে রূপ নিয়েছে।

দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রনজিৎ সিংহ জানান, ১৭০৪ সালে দিনাজপুরের মহারাজা রাজা প্রাণনাথ কান্তনগর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৭৫২ সালে তাঁর পোষ্যপুত্র রাজা রামনাথ এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। সেই সময় থেকেই এই বিশেষ ঐতিহ্যটি পালিত হয়ে আসছে। এদিকে, এই পুরো যাত্রাপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান।

এই নৌযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্ত সেজোতি রায় বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে এই মন্দিরে আসছেন এবং বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে এসে পূজা দিচ্ছেন। দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা রাজেশ কুমার রায় এই আয়োজনকে কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে মিশে থাকা আবেগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঠাকুরগাঁও থেকে আসা তাপস পাল জানান, তারা শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে সারা পৃথিবীর সুখ, শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

শঙ্খধ্বনিতে মুখর ঢেপা নদী, নৌযাত্রায় কান্তজিউ বিগ্রহের যাত্রা শুরু

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোরের স্নিগ্ধ আলো আর শঙ্খ-ঘণ্টার ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের কাহারোলের কান্তনগর মন্দির প্রাঙ্গণ। কীর্তনের সুর আর ভক্তদের প্রার্থনায় এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে। পূজা-অর্চনা শেষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরেক রূপ ‘কান্তজিউ বিগ্রহ’কে নিয়ে ভক্তরা যাত্রা শুরু করেছেন ঢেপা নদীর কান্তনগর ঘাটের দিকে। কারও হাতে ফুল, আবার কারও হাতে প্রদীপ—সবার চোখেমুখে ভক্তি ও আনন্দের এক অনন্য সংমিশ্রণ।

প্রায় ২৭৪ বছর ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তজিউ বিগ্রহ কাহারোল থেকে নদীপথে যাত্রা করে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে তিন মাস অবস্থানের পর রাসপূর্ণিমার দিনে বিগ্রহকে পুনরায় কান্তনগরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যায় নৌযাত্রাটি পুনর্ভবা নদীর সাধুর ঘাটে গিয়ে থামবে। নদীর দুই তীরে উপস্থিত ভক্তদের শ্রদ্ধা আর নৌকার বহর যেন এক ভাসমান উৎসবে রূপ নিয়েছে।

দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রনজিৎ সিংহ জানান, ১৭০৪ সালে দিনাজপুরের মহারাজা রাজা প্রাণনাথ কান্তনগর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৭৫২ সালে তাঁর পোষ্যপুত্র রাজা রামনাথ এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। সেই সময় থেকেই এই বিশেষ ঐতিহ্যটি পালিত হয়ে আসছে। এদিকে, এই পুরো যাত্রাপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান।

এই নৌযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্ত সেজোতি রায় বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে এই মন্দিরে আসছেন এবং বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে এসে পূজা দিচ্ছেন। দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা রাজেশ কুমার রায় এই আয়োজনকে কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে মিশে থাকা আবেগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঠাকুরগাঁও থেকে আসা তাপস পাল জানান, তারা শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে সারা পৃথিবীর সুখ, শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh