সাবেক স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে নাটোরে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৭:২৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

নাটোর সদর উপজেলার বাগরোমে সাবেক স্ত্রী মীম আক্তারকে (২১) ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অপরাধে মো. রাজু প্রং (২৮) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অনধিকার গৃহপ্রবেশের দায়ে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নাটোরের ৪র্থ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু প্রং নাটোর সদর থানার দক্ষিণ বড়গাছা এলাকার (বুড়া দরগাহ মসজিদের পাশে) মো. সুজন প্রং ও মোছা. ফাতেমা বেগমের ছেলে। আদালতের নথি ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রাজু প্রংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় অনধিকার গৃহপ্রবেশের অপরাধে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা জরিমানার মধ্যে ১ লাখ টাকা মামলা পরিচালনা বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হবে এবং অবশিষ্ট ৪ লাখ টাকা মামলার এজাহারকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ(১) ধারা অনুযায়ী, আসামি রাজু ইতোমধ্যে যে সময়টুকু হাজতবাস করেছেন, তা তার মূল কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজু প্রংয়ের সঙ্গে মীম আক্তারের বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে পারিবারিক কলহ ও বনিবনা না হওয়ায় ঘটনার প্রায় চার মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহবিচ্ছেদের পর মীমের পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রাজু। তিনি মোবাইল ফোনে মীমকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সকালে রাজু প্রং ও তার এক সহযোগী কৌশলে মীমদের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন। সেখানে রাজু ধারালো চাকু নিয়ে মীমের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তার বুক ও পেটে এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে সহযোগীকে নিয়ে একটি লাল রঙের মোটরসাইকেলে চড়ে রাজু ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।


























