ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি-মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না: ডা. শফিকুর রহমান নারী রেফারিকে হেনস্তা ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যে বরখাস্ত হিগুয়েইন খেলাফতের দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: মুহাম্মদ শাহজাহান বিএনপির কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরেছে: শফিকুর রহমান বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি, কার্যকর ২২ সেপ্টেম্বর দেশের ৬ হাজার ৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসাবে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চভাড়া বৃদ্ধি করল সরকার চিরিরবন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১, কারাদণ্ড নড়াইলে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০ অপ্রতিমকে নিয়ে ভিকটিম ব্লেমিংয়ে ক্ষুব্ধ মা, আসামিদের পক্ষে লড়বে না আইনজীবী সমিতি

গুরুদাসপুরে অনুমোদন ছাড়াই ৩ বছরে ভাঙা হলো ২২ লাখ টাকার স্কুল ভবন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার হতে না হতেই ২২ লাখ টাকার একটি সরকারি স্কুল ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ভবনটি ভেঙে ফেলার আগে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি ভবনটির রড, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী মাত্র এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে নারী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন মেলে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একতলা ভবনটি নির্মাণ করে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ভবনটি এবং তার পাশে থাকা একটি পুরোনো আধাপাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়।

বর্তমানে ওই স্থানে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একটি নতুন একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাইকার অর্থায়নে নির্মিত সেই ভবনের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। মাটির নিচে থাকা বীমের কিছু অংশ খুঁড়ে তোলায় সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে ভাঙা ভবনের কোনো ইট বা রডও অবশিষ্ট নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অন্য একটি ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে মাইকিং করে ভবন দুটি ভাঙা হলেও তারা জানতেন না যে এর জন্য কোনো সরকারি অনুমোদন বা নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে কি না। এত দ্রুত একটি ব্যবহার উপযোগী ভবন কেন ভাঙা হলো এবং বিক্রির টাকা কোথায় গেল, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ জানান, তিনি মাত্র দেড়-দুই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ভবন ভাঙা বা হিসাব-নিকাশের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এর জন্য প্রধান শিক্ষককেই দায়ী করেন। সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেনও জানান, নতুন ভবনের জায়গা নির্ধারণের সভা হলেও ভাঙা ও বিক্রির অর্থের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন দাবি করেন, বিদ্যালয়ে জায়গার সংকটের কারণে নতুন ভবন নির্মাণের স্বার্থে আগের ভবন দুটি ভাঙা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়ার পর গত ২৬ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তবে ভাঙার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। মাইকিং করে দরদাতার মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকায় মালামাল বিক্রি করার বিষয়ে কমিটির রেজুলেশন রয়েছে বলে দাবি করলেও এর কোনো লিখিত নথি বা টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবন ভাঙার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি বা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি নতুন ভবনের অনুমোদন আসে গত ২৩ আগস্ট, যার আগেই পুরোনো ভবন দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ইউজিডিপি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার ও উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া জানান, ভবনটি ভেঙে ফেলার খবর তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নিয়মনীতি অমান্য করে একটি ব্যবহার উপযোগী ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে, যার কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গুরুদাসপুরে অনুমোদন ছাড়াই ৩ বছরে ভাঙা হলো ২২ লাখ টাকার স্কুল ভবন

আপডেট সময় : ১০:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার হতে না হতেই ২২ লাখ টাকার একটি সরকারি স্কুল ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ভবনটি ভেঙে ফেলার আগে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি ভবনটির রড, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী মাত্র এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে নারী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন মেলে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একতলা ভবনটি নির্মাণ করে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ভবনটি এবং তার পাশে থাকা একটি পুরোনো আধাপাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়।

বর্তমানে ওই স্থানে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একটি নতুন একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাইকার অর্থায়নে নির্মিত সেই ভবনের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। মাটির নিচে থাকা বীমের কিছু অংশ খুঁড়ে তোলায় সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে ভাঙা ভবনের কোনো ইট বা রডও অবশিষ্ট নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অন্য একটি ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে মাইকিং করে ভবন দুটি ভাঙা হলেও তারা জানতেন না যে এর জন্য কোনো সরকারি অনুমোদন বা নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে কি না। এত দ্রুত একটি ব্যবহার উপযোগী ভবন কেন ভাঙা হলো এবং বিক্রির টাকা কোথায় গেল, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ জানান, তিনি মাত্র দেড়-দুই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ভবন ভাঙা বা হিসাব-নিকাশের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এর জন্য প্রধান শিক্ষককেই দায়ী করেন। সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেনও জানান, নতুন ভবনের জায়গা নির্ধারণের সভা হলেও ভাঙা ও বিক্রির অর্থের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন দাবি করেন, বিদ্যালয়ে জায়গার সংকটের কারণে নতুন ভবন নির্মাণের স্বার্থে আগের ভবন দুটি ভাঙা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়ার পর গত ২৬ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তবে ভাঙার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। মাইকিং করে দরদাতার মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকায় মালামাল বিক্রি করার বিষয়ে কমিটির রেজুলেশন রয়েছে বলে দাবি করলেও এর কোনো লিখিত নথি বা টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবন ভাঙার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি বা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি নতুন ভবনের অনুমোদন আসে গত ২৩ আগস্ট, যার আগেই পুরোনো ভবন দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ইউজিডিপি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার ও উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া জানান, ভবনটি ভেঙে ফেলার খবর তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নিয়মনীতি অমান্য করে একটি ব্যবহার উপযোগী ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে, যার কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh