নওগাঁ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:২১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বেশ কিছু অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রোগীদের কাছ থেকে সামগ্রিক সেবা নিয়ে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পেলেও কিছু অবহেলা ও সীমাবদ্ধতা মন্ত্রীর নজরে আসে।
পরিদর্শনকালে জানা যায়, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে বাইরে থেকে তা কিনে আনতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ওই রোগীর খরচের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া, ডিউটিতে ৪৫ মিনিট দেরিতে আসায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে মাত্র ১০০ শয্যার হিসেবে রোগীদের খাবার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই সংকট দূর করতে এবং খাবারের গুণগত মান বাড়াতে রোগীপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছি।
সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকারের নেওয়া বড় পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, তৃণমূল পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং জনবল সংকট কাটাতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই হাজার নার্স এবং আড়াই হাজার ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। এছাড়া খুব শিগগির ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে একটি বড় ও দক্ষ জনবল যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন。
ঢাকার ওপর রোগীদের চাপ কমাতে দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে এই সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক তিন শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে। এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার জন্য সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি বিশেষ শয্যা থাকবে। পাশাপাশি নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড এবং সমলিঙ্গের ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া আধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাবসহ নয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম প্রসঙ্গে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং নিবন্ধনের শর্ত না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




























