শিক্ষিকা বিয়ে করতে না পেরে ২২ বছর ধরে ভাত খান না কাইয়ূম
- আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মৃত আবদুল কুদ্দুস মাস্টারের দ্বিতীয় ছেলে আবদুল কাইয়ূম (৭০)। পেশায় তিনি একজন পল্লী ডাক্তার। তবে তার জীবনযাপন আর দশটা মানুষের মতো নয়। গত ২২ বছর সাড়ে ৯ মাস ধরে তিনি কোনো ভাত ছোঁননি, বেঁচে আছেন কেবল চিঁড়া আর মুড়ি খেয়ে। গোপালনগর বাজারে নিজের পৈতৃক জায়গায় একটি আয়ুর্বেদীয় ওষুধের দোকান রয়েছে কাইয়ূমের। সেই দোকান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই তিনি চিঁড়া-মুড়ি কিনে ক্ষুধা মেটান এবং গত ৩৬ বছর ধরে এই দোকানেই বিছানা পেতে রাতে ঘুমান।
কাইয়ূমের এমন ব্যতিক্রমী জীবন বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে এক না-বলা কষ্ট ও জেদ। তারা ১২ ভাই-বোন, যার মধ্যে ৮ ভাই ও ৪ বোন। এক ভাই ইতিমধ্যে মারা গেছেন। ১৯৭৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর কাইয়ূমের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তখন তার বাবা বেঁচে ছিলেন। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে তিনি যখন বিয়ে করতে রাজি হন, তখন তিনি শর্ত দেন যে পাত্রীকে অবশ্যই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হতে হবে। তবে পরিবারের কেউ আর তার বিয়ের ব্যাপারে তেমন উদ্যোগ নেয়নি। কে বা কারা এক সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তাও তিনি সঠিকভাবে জানেন না। শেষ পর্যন্ত সেই বিয়ে আর সম্পন্ন হয়নি।
এই ঘটনার পর থেকেই তার মনের কষ্ট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ভাই-বউদের কাছে ভাত চেয়ে খেতেও তার সংকোচ ও বিরক্তি বোধ হতে শুরু করে। সব মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে বিয়ে করতে না পারলে আর কখনো ভাত খাবেন না। সেই থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিজ্ঞা ২২ বছর সাড়ে ৯ মাস ধরে বজায় রেখেছেন কাইয়ূম। তিনি জানান, এখনো তার বিয়ে করার ইচ্ছা আছে, তবে পাত্রীকে অবশ্যই কোনো বিধবা ও বয়স্ক শিক্ষিকা হতে হবে। স্বেচ্ছায় কোনো শিক্ষিকা রাজি হলে তিনি বিয়ে করবেন। কাইয়ূম কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তবে মন ভালো না থাকলে তিনি মাঝে মাঝে না খেয়েও দিন পার করেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী ও ব্যবসায়ীরা কাইয়ূমের এই সরল জীবনযাপনের কথা নিশ্চিত করেছেন। ৫৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী মাহমুদ আলী জানান, কাইয়ূমের কোনো লোভ-লালসা নেই এবং তিনি অত্যন্ত সরল মনের মানুষ। প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি কেবল চিঁড়া-মুড়ি খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। গোপালনগর বাজারের স্থানীয় দোকানদার মো. কামরুজ্জামান (৪৭) বলেন, কাইয়ূম যখন বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, তখন পরিবার তাকে বিয়ে করায়নি। পরে তিনি শিক্ষিকা ছাড়া বিয়ে করবেন না বলে শর্ত দেন এবং তা না হওয়ায় ভাত খাওয়া ছেড়ে দেন। এখন কেউ তাকে খাওয়াতে চাইলেও তিনি ভাত খান না। কাইয়ূমের ছোট ভাই ফারুক একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, যিনি আকুয়া বাইপাস মোড়ের একটি কমিউনিটি সেন্টারে কর্মরত আছেন। তবে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।




























