ঢাকা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বারে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু বগুড়ার শেরপুরে দিনে দুপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি। সহকারী কর কমিশনারের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে এএসপি সোহেল বরখাস্ত ৩০ সেকেন্ডে ১৯৫টি চুম্বন, গিনেস রেকর্ডে ব্রাজিলের দম্পতি মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে আনা নিয়ে যা বললেন এমপি হান্নান মাসউদ ইসলামি সমাজ বিশ্লেষণের তাত্ত্বিক কাঠামো ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মিয়ানমার থেকে চীনে পাচার হচ্ছে নারীরা, বাড়ছে মানবপাচারের ভয়াবহতা বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১, পানিবন্দী লাখো পরিবার প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইয়ামালের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার কোনাতে

মিয়ানমার থেকে চীনে পাচার হচ্ছে নারীরা, বাড়ছে মানবপাচারের ভয়াবহতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই চক্রগুলো মিয়ানমারের অসহায় নারীদের ফুসলিয়ে চীনে পাচার করছে এবং তথাকথিত ‘অবিবাহিত পুরুষদের’ কাছে তাদের বিক্রি করে দিচ্ছে। মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই দেশটিতে ৮০টি মানবপাচারের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি ঘটনায় মিয়ানমারেই ভুয়া বিয়ের আয়োজন করে পরে ভুক্তভোগীদের বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার প্রধান গন্তব্য ছিল চীন।

পাচারকারীদের খপ্পরে পড়া নারীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার চিত্র ফুটে উঠেছে বিভিন্ন ঘটনায়। মান্দালয় অঞ্চলের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে চীনা ব্যক্তির সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রলোভনে ১ কোটি ৫০ লাখ কিয়াত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ইয়াঙ্গুনের এক পোশাক কারখানায় কর্মরত ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ছয় মাসের জন্য চীনা নাগরিককে বিয়ে করতে রাজি হওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ কিয়াতের প্রলোভন দেখানো হয়। নেপিডোর ২৪ বছর বয়সী এক নারীকে ভুয়া চাকরির কথা বলে চীনে নিয়ে প্রথমে এক ব্যক্তির কাছে এবং পরে আরেকজনের কাছে বিক্রি করা হয়। অবৈধ সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে সেখানে তাকে নয় মাস আটক থাকতে হয়েছিল। একইভাবে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ২ কোটি কিয়াতের দেনমোহরে ইয়াঙ্গুনের এক নারীর বিয়ের ঘটনা এবং ২০ বছরের বেশি বয়সী তিন নারীকে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের প্রলোভনে দেড় কোটি কিয়াত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মানবপাচার এখন আর শুধু মিয়ানমার-চীন সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। গত মার্চে তাইওয়ানের নিউ তাইপেই শহরে একটি চক্র ভেঙে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৯ জন মিয়ানমারী নারীকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে এই চক্রকে ‘কেকে পার্কের তাইওয়ান সংস্করণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। গত মাসে ব্যাংককে এক চীনা চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তারের পর থাই পুলিশ জানায়, ২০২৪ সাল থেকে এই চক্রটি অন্তত ২০ জন মিয়ানমারের নারীকে চীনে পাচার করেছে এবং একই সংখ্যক চীনা পুরুষকে ইয়াঙ্গুনে পাত্রী খুঁজতে সহায়তা করেছে।

চীন সরকারও এই সমস্যা সম্পর্কে অবগত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমারে অবস্থিত চীনা দূতাবাস নিজেদের নাগরিকদের সীমান্ত পেরিয়ে পাত্রী খোঁজার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। দূতাবাস জানায়, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে অনেক চীনা নাগরিক আইনের আওতায় আসছেন। মূলত গৃহযুদ্ধ ও চরম দারিদ্র্যের কারণে মিয়ানমারের অসংখ্য নারী এখন মানবপাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছেন। আগে মানবপাচারের শিকার হতেন মূলত কাচিন ও উত্তর শান রাজ্যের সংঘাতকবলিত এলাকার নারীরা। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অর্থনৈতিক ধস ও আইনের শাসনের অবক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিতে থাকা নারীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পাচারকারীরা এখন প্রকাশ্যেই তাদের ফাঁদে ফেলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমার থেকে চীনে পাচার হচ্ছে নারীরা, বাড়ছে মানবপাচারের ভয়াবহতা

আপডেট সময় : ০৮:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
print news

মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই চক্রগুলো মিয়ানমারের অসহায় নারীদের ফুসলিয়ে চীনে পাচার করছে এবং তথাকথিত ‘অবিবাহিত পুরুষদের’ কাছে তাদের বিক্রি করে দিচ্ছে। মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই দেশটিতে ৮০টি মানবপাচারের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি ঘটনায় মিয়ানমারেই ভুয়া বিয়ের আয়োজন করে পরে ভুক্তভোগীদের বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার প্রধান গন্তব্য ছিল চীন।

পাচারকারীদের খপ্পরে পড়া নারীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার চিত্র ফুটে উঠেছে বিভিন্ন ঘটনায়। মান্দালয় অঞ্চলের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে চীনা ব্যক্তির সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রলোভনে ১ কোটি ৫০ লাখ কিয়াত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ইয়াঙ্গুনের এক পোশাক কারখানায় কর্মরত ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ছয় মাসের জন্য চীনা নাগরিককে বিয়ে করতে রাজি হওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ কিয়াতের প্রলোভন দেখানো হয়। নেপিডোর ২৪ বছর বয়সী এক নারীকে ভুয়া চাকরির কথা বলে চীনে নিয়ে প্রথমে এক ব্যক্তির কাছে এবং পরে আরেকজনের কাছে বিক্রি করা হয়। অবৈধ সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে সেখানে তাকে নয় মাস আটক থাকতে হয়েছিল। একইভাবে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ২ কোটি কিয়াতের দেনমোহরে ইয়াঙ্গুনের এক নারীর বিয়ের ঘটনা এবং ২০ বছরের বেশি বয়সী তিন নারীকে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের প্রলোভনে দেড় কোটি কিয়াত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মানবপাচার এখন আর শুধু মিয়ানমার-চীন সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। গত মার্চে তাইওয়ানের নিউ তাইপেই শহরে একটি চক্র ভেঙে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৯ জন মিয়ানমারী নারীকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে এই চক্রকে ‘কেকে পার্কের তাইওয়ান সংস্করণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। গত মাসে ব্যাংককে এক চীনা চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তারের পর থাই পুলিশ জানায়, ২০২৪ সাল থেকে এই চক্রটি অন্তত ২০ জন মিয়ানমারের নারীকে চীনে পাচার করেছে এবং একই সংখ্যক চীনা পুরুষকে ইয়াঙ্গুনে পাত্রী খুঁজতে সহায়তা করেছে।

চীন সরকারও এই সমস্যা সম্পর্কে অবগত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমারে অবস্থিত চীনা দূতাবাস নিজেদের নাগরিকদের সীমান্ত পেরিয়ে পাত্রী খোঁজার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। দূতাবাস জানায়, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে অনেক চীনা নাগরিক আইনের আওতায় আসছেন। মূলত গৃহযুদ্ধ ও চরম দারিদ্র্যের কারণে মিয়ানমারের অসংখ্য নারী এখন মানবপাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছেন। আগে মানবপাচারের শিকার হতেন মূলত কাচিন ও উত্তর শান রাজ্যের সংঘাতকবলিত এলাকার নারীরা। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অর্থনৈতিক ধস ও আইনের শাসনের অবক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিতে থাকা নারীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পাচারকারীরা এখন প্রকাশ্যেই তাদের ফাঁদে ফেলছে।