ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি: আত্মত্যাগ ও গৌরবের ইতিহাস

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি: আত্মত্যাগ ও গৌরবের ইতিহাস

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ফেব্রুয়ারি, বাঙালির ভাষার মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল মাতৃভাষার দাবিতে আত্মত্যাগী শহীদদের রক্তে। বাঙালি জাতি এই মাসে ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ অসংখ্য অকুতোভয় তরুণকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের বিরল ইতিহাস গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বাঙালি তার ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তার পরিচয়কে সুসংহত করে।

এই আন্দোলনের পথচলা শুরু হয়েছিল বহু আগেই। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষার প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন— “পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু— অন্য কোনো ভাষা নয়।” তার এই ঘোষণার বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ভাষা আন্দোলন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা তখন থেকেই প্রতিবাদ জানাতে থাকে। একই বছরের ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। আন্দোলন আরও তীব্রতর হয় ১৯৫২ সালে, যখন সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

কিন্তু ভাষার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সাহসী ছাত্রসমাজ ২১ ফেব্রুয়ারির সকালেই রাজপথে নেমে আসে। পুলিশ তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়, শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। সেই আত্মদানের বিনিময়ে ১৯৫৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল না, এটি পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেই পথ ধরে আসে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

বাংলা ভাষার এই আন্দোলন আজ আর শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বসভায় এক অনন্য নজির। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়।

ফেব্রুয়ারি তাই শুধু স্মরণের নয়, প্রেরণারও মাস। বাঙালির আত্মপরিচয়ের, দেশপ্রেমের ও ভাষার মর্যাদা রক্ষার শপথ নেওয়ার মাস। এই মাসজুড়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বাঙালি জানায় অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, আর বইমেলা, সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধিকে উদ্‌যাপন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি: আত্মত্যাগ ও গৌরবের ইতিহাস

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ফেব্রুয়ারি, বাঙালির ভাষার মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল মাতৃভাষার দাবিতে আত্মত্যাগী শহীদদের রক্তে। বাঙালি জাতি এই মাসে ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ অসংখ্য অকুতোভয় তরুণকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের বিরল ইতিহাস গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বাঙালি তার ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তার পরিচয়কে সুসংহত করে।

এই আন্দোলনের পথচলা শুরু হয়েছিল বহু আগেই। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষার প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন— “পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু— অন্য কোনো ভাষা নয়।” তার এই ঘোষণার বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ভাষা আন্দোলন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা তখন থেকেই প্রতিবাদ জানাতে থাকে। একই বছরের ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। আন্দোলন আরও তীব্রতর হয় ১৯৫২ সালে, যখন সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

কিন্তু ভাষার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সাহসী ছাত্রসমাজ ২১ ফেব্রুয়ারির সকালেই রাজপথে নেমে আসে। পুলিশ তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়, শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। সেই আত্মদানের বিনিময়ে ১৯৫৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল না, এটি পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেই পথ ধরে আসে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

বাংলা ভাষার এই আন্দোলন আজ আর শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বসভায় এক অনন্য নজির। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়।

ফেব্রুয়ারি তাই শুধু স্মরণের নয়, প্রেরণারও মাস। বাঙালির আত্মপরিচয়ের, দেশপ্রেমের ও ভাষার মর্যাদা রক্ষার শপথ নেওয়ার মাস। এই মাসজুড়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বাঙালি জানায় অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, আর বইমেলা, সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধিকে উদ্‌যাপন করে।