মাটিরাঙ্গায় দুর্গোৎসব শেষে পাহাড় পরিচ্ছন্নতায় তরুণদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় দুর্গোৎসব উদযাপন পরবর্তী পরিবেশদূষণ রোধে পূজামণ্ডপ ও তার আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন করার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় একদল তরুণ-তরুণী। সামাজিক সংগঠন ‘ইউথ অরিজিন ফাউন্ডেশন, ক্লিন হিলস গ্রিন ফিউচার’-এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রকৃতি সুরক্ষায় তরুণদের এমন দায়িত্বশীল পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অভিযান চলাকালে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা মাস্ক ও গ্লাভস পরিধান করে উৎসবের পর ফেলে যাওয়া অপচনশীল প্লাস্টিক, ফুলের মালাসহ নানা ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করেন। মাটিরাঙ্গার ব্যাঙ্গমারা, নতুনপাড়া, কালী মন্দির এবং বলিটিলা পূজামণ্ডপ এলাকায় এই কার্যক্রম চালানো হয়। সংগৃহীত বর্জ্য পরবর্তীতে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয় এবং অপচনশীল বর্জ্যগুলো নিরাপদ উপায়ে অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসব-পরবর্তী প্লাস্টিক ও ক্ষতিকারক বর্জ্য পাহাড়ি প্রকৃতির জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে এসব বর্জ্য স্থানীয় ছড়া ও ঝিরিতে গিয়ে পড়লে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি ঘটে। এছাড়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ সীমিত থাকায় তরুণদের এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২৩ সালে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করা ‘ইউথ অরিজিন ফাউন্ডেশন’-এ বর্তমানে প্রায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব ত্রিপুরার পরিচালনায় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ভাসুরি ত্রিপুরা। এছাড়া কার্যক্রমে যুক্ত আছেন সদস্য কর্ণজ্যোতি ত্রিপুরা এবং নির্বাহী সদস্য বেবি মারমা, টুটুল ত্রিপুরা, অনিতা ত্রিপুরা ও রতন মণিসহ আরও অনেকে। ত্রিপুরা ও মারমাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর যুবসমাজের একযোগে অংশগ্রহণ পাহাড়ি জনপদে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কাজেও এই তরুণরা নিয়মিত অংশ নেন।
উদ্যোগটি সম্পর্কে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব ত্রিপুরা জানান, “উৎসবের আনন্দ সবাই ভাগ করে নেয়, কিন্তু উৎসবের পর জমে থাকা বর্জ্য পাহাড়ের প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। তাই আমরা তরুণরা এগিয়ে এসেছি। আমরা চাই পাহাড় পরিচ্ছন্ন থাকুক, আগামী প্রজন্ম একটি সবুজ পাহাড় পাক। সবাই সচেতন হলে এ কাজ আরও সহজ হবে।” ‘ক্লিন হিলস, গ্রিন ফিউচার’ বা ‘পরিচ্ছন্ন পাহাড়, সবুজ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানকে ধারণ করে পাহাড়ের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় তারা ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান।




























