ঢাকা মেডিকেলে ডেঙ্গু রোগীর উপচে পড়া ভিড়, বারান্দায় চলছে চিকিৎসা
- আপডেট সময় : ০৫:০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামলাতে তিনটি ওয়ার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও তাতে সংকুলান হচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন শয্যার প্রয়োজন পড়ছে। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দা, করিডোর, এমনকি সিঁড়ির সামনে ও পেছনে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে লিফটের সামনের সামান্য জায়গা বেছে নিয়েছেন আশ্রয়স্থল হিসেবে। একই স্ট্যান্ডে দু’জন রোগীর স্যালাইন ঝোলানোর দৃশ্যও চোখে পড়ছে।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৫০২, ৪০২ ও ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৪ জন, ৪০২ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ জন এবং ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫২ জন রোগী ভর্তি আছেন। চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন।
মাগুরার খোকন মিয়া গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। ডেঙ্গুর সংক্রমণে তার প্লাটিলেট ২০ হাজারে নেমে এসেছিল এবং পায়খানার সঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত ৩টার দিকে বারান্দার একটি শয্যায় তার জায়গা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রুমা আক্তার ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি শয্যায় শুয়ে আছেন, যার প্লাটিলেট ২৫ হাজারে নেমেছে এবং ১০৩ ডিগ্রি জ্বর রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দির রমজান হোসেন শয্যা না পেয়ে করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জের ইউসুফ সরদারকেও জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডের বাইরে লিফটের সামনে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও রেজিস্ট্রার ডা. সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি থাকে। ডেঙ্গুর কারণে রক্তের জলীয় অংশ শরীরের অন্য স্থানে জমা হতে পারে, যা তারা ফ্লুইড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, প্লাটিলেট কমে যাওয়ার চেয়ে অন্যান্য শারীরিক জটিলতা তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে তারা শুধু প্লাটিলেট না দিয়ে সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন, কারণ এতে রোগীর অন্যান্য উপাদানের চাহিদাও পূরণ হয়।





























