ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ৩০০ বাড়ি ভস্মীভূত, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ
- আপডেট সময় : ০৯:০২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ৩০০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। এল নিনোর প্রভাবে তীব্র হওয়া এই আগুনের হাত থেকে বাঁচতে অন্তত এক হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা রিজা হারদেভিদ জানিয়েছেন, গত শনিবার বাংকা বেলিতুং প্রদেশের দক্ষিণ বাংকা অঞ্চলের একটি গ্রামের বাসিন্দারা আগুনের লেলিহান শিখা জনবসতির দিকে এগিয়ে আসতে দেখেন।
প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসী নিজেরাই বহনযোগ্য পানির পাম্প ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধারণা করেছিলেন। তবে ওই এলাকাটি পিট মাটি ও জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ জলাভূমি হওয়ায় মাটির নিচে আগুন জ্বলতে থাকে। রিজা হারদেভিদ বলেন, এলাকাবাসীরা ভেবেছিলেন আগুন নিভে গেছে, কিন্তু মাটির নিচে তা জ্বলছিল। পরবর্তীতে বাতাসের দিক পরিবর্তনের ফলে আগুন দ্রুত জনবসতির দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী লেনি নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তার বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং কিছুই অবশিষ্ট নেই। সন্তানদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে তিনি কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার সুযোগও পাননি। আরেক বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হারিয়ানতি জানান, প্রবল বাতাসে আগুনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় কাঠ দিয়ে তৈরি ঘরগুলো দ্রুত ভস্মীভূত হয়। রিজা জানান, যে গ্রামটিতে আগুন লেগেছে, তা একসময় সংরক্ষিত পিট জলাভূমি ছিল, যা গত বছর আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করা হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে দাবানল স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এ বছর এল নিনোর কারণে তা অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি গত চার দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। পাশাপাশি বনভূমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলার প্রবণতাকেও দাবানলের বিস্তারের জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে এবং ভূমির স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেছে।
চলতি বছরের দাবানলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়াশার কারণে কয়েক দশ হাজার মানুষ শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বায়ুদূষণের মাত্রাও বাড়িয়ে দিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, বোর্নিওর একটি প্রদেশে ঘন ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানি ছোড়ার উড়োজাহাজগুলো উড্ডয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সোমবার দাবানল নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ৬০ হাজারের বেশি কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তবে দেশের কোনো কোনো এলাকায় গত তিন মাস ধরে আগুন জ্বলছে।




























