মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় হুমকি এলে বাংলাদেশ পাশে থাকবে: শামা ওবায়েদ
- আপডেট সময় : ০৫:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র মক্কা ও মদিনার ওপর কোনো ধরনের হুমকি এলে বাংলাদেশ নিশ্চুপ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনা বিশ্বের সকল মুসলমানের ঐক্যের প্রতীক এবং এটি কেবল একটি কূটনৈতিক বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে গভীর আবেগ জড়িত। তাই এই পবিত্র স্থানের ওপর হুমকি এলে বাংলাদেশ অবশ্যই সহায়তার জন্য এগিয়ে আসবে।
গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বিআইআইএসএস আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে পথপরিক্রমা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।
মক্কা জোটে বাংলাদেশের সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ এখনো ওই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি। তিনি বলেন, জোটে যোগ দিলে সেনা পাঠানোর বিষয়টি সামনে আসবে, কিন্তু বর্তমানে এ নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে সৌদি আরবের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ চায় অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ হোক।
গত শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির ঘটনায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই হামলায় ২৪ জনেরও বেশি বাংলাদেশি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তারা আইসিইউতে রয়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান কামনা করেন।
সেমিনারে বিআইআইএসএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর ও ড. সুফিয়া খানম এবং গবেষণা ফেলো এএসএম তারেক হাসান শিমুল ও আয়েশা বিনতে তৌহিদ চারটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। এতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সমন্বয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া উদীয়মান চ্যালেঞ্জ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



























