ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মদনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত জাতীয় কন্যাশিশু দিবস দুর্গাপূজায় সারাদেশে ১০ হাজার বিজিবি, থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা ও ওমরাহ যাত্রীদের নিরাপত্তা চাইলেন মামুনুল হক সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ পুনর্বিবেচনার আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের ইমরান খানের দলের শত শত নেতাকর্মী আটক, আন্দোলন স্তিমিত সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের প্রবাসী কামরুলের মৃত্যু নাইট ক্লাবে সাদ-সোহেল, তদন্তের ঘোষণা দিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ সচিবালয়ে নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ৯ সিদ্ধান্ত রাজধানীর টিকাটুলিতে দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারালেন নারী চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের মার্কেটের আগুন

এক বছরেও গাজায় শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ লাঘব এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘শান্তি বোর্ড’ এক বছর পূর্ণ করেছে। তবে এই সময়ের মধ্যে বোর্ডটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, ইসরাইলি বাহিনীর দখলদারিত্ব রোধ কিংবা গাজায় ত্রাণ ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। উল্টো ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে এবং গাজার অধিকাংশ মানুষ বর্তমানে তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে জীবনযাপন করছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প এই শান্তি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মূল পরিকল্পনা ছিল গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করা। সেই বছরের ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বোর্ডটিকে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলা প্রায় প্রতিদিনই চলছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। গাজায় চলমান এই তিন বছরে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজারো নিখোঁজ মানুষকে মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শান্তি পরিকল্পনায় গাজার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং আকাশপথে ও কামান দিয়ে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ইসরাইল গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে। দখল করা এলাকা চিহ্নিত করার ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে আরও ভেতরে সরিয়ে নেওয়ায় ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গা সংকুচিত হয়েছে, যার ফলে তারা বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। হলুদ রেখা অতিক্রমের অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে না।

মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও চরম ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বর্তমানে গড়ে মাত্র ২২৭টি ট্রাক প্রবেশ করছে। আইপিসির তথ্য অনুযায়ী, গাজার ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবেন, যা মে মাসের তুলনায় ২ লাখ বেশি। এছাড়া ইসরাইল তাঁবু ও ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি পণ্যগুলোকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলোর প্রবেশ সীমিত করে রেখেছে।

পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। শান্তি বোর্ডের প্রথম সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ৭০০ কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও সংস্থাগুলোর মতে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বোর্ড ২৪০ কোটি ডলারের ৬৬টি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করলেও তা গাজাবাসীর জীবনে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে এবং জাতিগতভাবে নির্মূল করার নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

এক বছরেও গাজায় শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ লাঘব এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘শান্তি বোর্ড’ এক বছর পূর্ণ করেছে। তবে এই সময়ের মধ্যে বোর্ডটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, ইসরাইলি বাহিনীর দখলদারিত্ব রোধ কিংবা গাজায় ত্রাণ ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। উল্টো ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে এবং গাজার অধিকাংশ মানুষ বর্তমানে তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে জীবনযাপন করছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প এই শান্তি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মূল পরিকল্পনা ছিল গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করা। সেই বছরের ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বোর্ডটিকে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলা প্রায় প্রতিদিনই চলছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। গাজায় চলমান এই তিন বছরে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজারো নিখোঁজ মানুষকে মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শান্তি পরিকল্পনায় গাজার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং আকাশপথে ও কামান দিয়ে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ইসরাইল গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে। দখল করা এলাকা চিহ্নিত করার ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে আরও ভেতরে সরিয়ে নেওয়ায় ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গা সংকুচিত হয়েছে, যার ফলে তারা বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। হলুদ রেখা অতিক্রমের অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে না।

মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও চরম ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বর্তমানে গড়ে মাত্র ২২৭টি ট্রাক প্রবেশ করছে। আইপিসির তথ্য অনুযায়ী, গাজার ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবেন, যা মে মাসের তুলনায় ২ লাখ বেশি। এছাড়া ইসরাইল তাঁবু ও ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি পণ্যগুলোকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলোর প্রবেশ সীমিত করে রেখেছে।

পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। শান্তি বোর্ডের প্রথম সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ৭০০ কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও সংস্থাগুলোর মতে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বোর্ড ২৪০ কোটি ডলারের ৬৬টি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করলেও তা গাজাবাসীর জীবনে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে এবং জাতিগতভাবে নির্মূল করার নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh