ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আদালতে হাতকড়া ও সিঁড়ি ব্যবহার নিয়ে পলকের ক্ষোভ বিশ্বনাথে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জেলেদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর ঢাকার রাস্তায় নারী চালকের মোটরসাইকেলে নারী যাত্রী, স্বস্তি দিচ্ছে ‘মায়া রাইড’ ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিতে মার্কিন বাহিনীকে পেন্টাগনের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার দুর্গাপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা, ২৩ মণ্ডপে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হবে ঢাকা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: প্রথম রাতেই পটুয়াখালীতে তিনজনের কারাদণ্ড

ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ২২ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আগামীকাল ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে ভোলার নদী দুটির প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতিমধ্যে স্থানীয় জেলে পল্লিগুলোতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দিষ্ট সময়ে নদীর অভয়াশ্রমগুলোতে মা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়তে আসে। তাই প্রাকৃতিকভাবে মাছের নিরাপদ বংশবিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলে পরিবারগুলোকে চরম সংকটে পড়তে হয়। বিকল্প আয়ের কোনো উৎস না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খান তারা।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ জেলেরা প্রশাসনের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হোক এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে জেলেদের অভিযোগ, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাধারণ ও সৎ জেলেরা নদীতে না নামলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাছ শিকার করে। এতে সরকারি অভিযান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদনও কমে যায়। তাই এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভোলার সাতটি উপজেলায় নিবন্ধিত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬টি জেলে পরিবারের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত জেলে পরিবার এই ২২ দিনের জন্য ২৫ কেজি করে চাল পাবে।

এ বিষয়ে ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ২২ দিন নদী ও সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়মতো এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে জেলেদের হাতে বরাদ্দের চাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ২২ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৯:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আগামীকাল ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে ভোলার নদী দুটির প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতিমধ্যে স্থানীয় জেলে পল্লিগুলোতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দিষ্ট সময়ে নদীর অভয়াশ্রমগুলোতে মা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়তে আসে। তাই প্রাকৃতিকভাবে মাছের নিরাপদ বংশবিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলে পরিবারগুলোকে চরম সংকটে পড়তে হয়। বিকল্প আয়ের কোনো উৎস না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খান তারা।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ জেলেরা প্রশাসনের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হোক এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে জেলেদের অভিযোগ, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাধারণ ও সৎ জেলেরা নদীতে না নামলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাছ শিকার করে। এতে সরকারি অভিযান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদনও কমে যায়। তাই এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভোলার সাতটি উপজেলায় নিবন্ধিত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬টি জেলে পরিবারের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত জেলে পরিবার এই ২২ দিনের জন্য ২৫ কেজি করে চাল পাবে।

এ বিষয়ে ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ২২ দিন নদী ও সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়মতো এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে জেলেদের হাতে বরাদ্দের চাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh