ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লিতে বিশেষ বার্তা ত্রিবেদীর কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিকের বাবা-মাকে মারধর নিজেদের প্রয়োজনে বিমান কিনছে বাংলাদেশ, কোনো পক্ষকে খুশি করতে নয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশ কটিয়াদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে জামায়াতের কর্মসূচি ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সাথে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই মতিঝিলের আলোচিত বাংলার বাণী ভবন এখন প্রতিমন্ত্রীর কব্জায় সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতি হামলা, নিহত ৩ ও আহত ৩৬ বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: পাঁচ মাসে ৩৯ খুন ভুল করে নাটোর স্টেশনে নেমে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারালেন জার্মান পর্যটক

কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে নারীকে গণপিটুনি, উদ্ধার শিশু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে এক নারীকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। একই সঙ্গে ওই নারীর কাছ থেকে ইলমা (৭) নামের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটি বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়ার মেয়ে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ওই নারীর নাম প্রিয়া (২৫) বলে জানতে পেরেছে। তিনি নিজেকে বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করলেও পুলিশ তাঁর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই-বাছাই করছে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ৬৩ নম্বর বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। কালো বোরকা পরা এক নারী তাদের নাম ধরে ডেকে একপর্যায়ে ইলমাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যান। বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থীদের নজরে পড়লে তারা পিছু নেয় এবং অটোরিকশায় শিশুটিকে তুলে নিতে দেখে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দপ্তরি শহিদুল্লাহকে জানায়। পরে শিশুটির বাবা বিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় অটোরিকশাটির সন্ধান পান।

ভুক্তভোগী শিশু ইলমা জানায়, ওই নারী তাকে বলেছিল তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং তাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেছিল। স্থানীয় লোকজন ওই নারীর কাছে পরিচয় ও শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কিশো আর সুলতানা জানান, ঘটনার সময় তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন, পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত খোঁজ শুরু করেন।

কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের গাড়ির একটি গ্লাসও ভেঙে গেছে।’ অভিযুক্ত নারী নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও কেন শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন সে বিষয়ে নীরব ছিলেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে নারীকে গণপিটুনি, উদ্ধার শিশু

আপডেট সময় : ১২:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে এক নারীকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। একই সঙ্গে ওই নারীর কাছ থেকে ইলমা (৭) নামের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটি বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়ার মেয়ে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ওই নারীর নাম প্রিয়া (২৫) বলে জানতে পেরেছে। তিনি নিজেকে বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করলেও পুলিশ তাঁর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই-বাছাই করছে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ৬৩ নম্বর বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। কালো বোরকা পরা এক নারী তাদের নাম ধরে ডেকে একপর্যায়ে ইলমাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যান। বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থীদের নজরে পড়লে তারা পিছু নেয় এবং অটোরিকশায় শিশুটিকে তুলে নিতে দেখে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দপ্তরি শহিদুল্লাহকে জানায়। পরে শিশুটির বাবা বিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় অটোরিকশাটির সন্ধান পান।

ভুক্তভোগী শিশু ইলমা জানায়, ওই নারী তাকে বলেছিল তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং তাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেছিল। স্থানীয় লোকজন ওই নারীর কাছে পরিচয় ও শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কিশো আর সুলতানা জানান, ঘটনার সময় তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন, পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত খোঁজ শুরু করেন।

কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের গাড়ির একটি গ্লাসও ভেঙে গেছে।’ অভিযুক্ত নারী নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও কেন শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন সে বিষয়ে নীরব ছিলেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh