যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর হবে সাবেক মেজরের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ১১:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এই শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসান। আগামী ৩রা ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে প্রকাশ্যে গুলি করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি জানিয়েছেন।
২০০৯ সালের ৫ই নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে নিরস্ত্র ১৩ মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন নিদাল হাসান। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছিলেন। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে যুদ্ধের বাইরে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। সে সময় সেনা মোতায়েনের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নেয়ার জন্য অপেক্ষারত সদস্যদের ওপর এই হামলা চালানো হয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করেছিলেন, যা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অনুমোদন করেছেন। পার্নেলের মতে, হাসানের জন্য বিচারের দিন অবশেষে এসেছে।
২০১৩ সালে সামরিক আদালতে বিচার চলাকালে নিদাল হাসান হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন। নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে, আফগানিস্তানে মুসলিম ও তালেবানদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় হাসানসহ মোট চারজন রয়েছেন। সামরিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া আপিলের মাধ্যমে মামলাটি পর্যালোচনা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বৈধতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য আর্মড ফোর্সেস সামরিক মৃত্যুদণ্ডকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও, পরের বছর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা পুনর্বহাল করা হয়েছিল।



























