ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক: প্রেস কাউন্সিল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৪৬৫, মামলা ৭৩ কয়রার যোগাযোগ সংকট কাটাতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ দেশে ২ কোটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা, লক্ষ্য আরও ৩৫ লাখ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ভাঙ্গুড়ায় নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সিসিটিভিতে ধরা পড়ল প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর দৃশ্য বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ মনোযোগের রাশ কার হাতে, আপনার নাকি ফোনের স্ক্রিনের? যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর হবে সাবেক মেজরের মৃত্যুদণ্ড

পানির তীব্র সংকট: ২০৩০ সালের আগেই ফুরিয়ে যাবে কাবুলের জল!

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পানি সংকট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বেসরকারি সংস্থা প্রসপার গ্লোবালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাবুল আধুনিক বিশ্বের প্রথম বড় শহর হিসেবে পরিচিত হতে পারে যেখানে সম্পূর্ণভাবে পানি ফুরিয়ে যাবে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে শহরের অনেক বাসিন্দার জন্য সেই 'ডে জিরো' বা পানির চূড়ান্ত সংকটকাল ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

খায়ের খানা এলাকার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী শাজিয়া তার স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তাদের বাড়িতে নেই কোনো পানির সংযোগ। পানির ট্যাংকার কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শাজিয়াকে প্রতিদিন সন্তানদের নিয়ে স্থানীয় মসজিদে যেতে হয়। সেখানে হ্যান্ডপাম্প থেকে পানি সংগ্রহ করতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং ভারী বালতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। শাজিয়া বলেন, পিঠে ব্যথা হয় এবং স্কুল শেষে সন্তানদের এভাবে টেনে নিয়ে বের হওয়াটা তার জন্য কষ্টকর, কিন্তু এছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

কাবুলের প্রধান পানির উৎস হলো ভূগর্ভস্থ পানি। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল, যেখানে মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বাসিন্দার পাইপলাইনের পানি ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। গত এক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১০০ ফুট নিচে নেমে গেছে এবং শহরের প্রায় অর্ধেক গভীর নলকূপ শুকিয়ে গেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত পানি উত্তোলন এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আফগানিস্তান টানা ছয় বছর ধরে খরার কবলে রয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে তুষারপাত গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল এবং ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তুষারপাত প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।

২০০১ সালে কাবুলের জনসংখ্যা ছিল ১০ লাখের কম, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার দরিদ্ররা। বিশ্লেষকদের মতে, দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পানি কিনতে ব্যয় করছে, অথচ জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবারের আয়ের ৩ শতাংশ বা তার কম পানি বাবদ ব্যয় হওয়া সহনীয়। এছাড়া শহরের অনেক এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য ও আর্সেনিকের কারণে পান অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফাইজি কাবুলের এই পরিস্থিতিকে 'মানবিক বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, সংকট মোকাবিলায় সময় খুব কম। সংকট নিরসনে শাহতুত বাঁধ নির্মাণ এবং পানশির নদী থেকে ১২৪ মাইল পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি আনার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কাবুলের বাসিন্দা সাইদ আগা বলেন, বহু বছর আগে তারা বোমা ও রকেট থেকে বাঁচতে কাবুল থেকে পালিয়েছিলেন, এখন পানির অভাবে হয়তো আবার পালাতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

পানির তীব্র সংকট: ২০৩০ সালের আগেই ফুরিয়ে যাবে কাবুলের জল!

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পানি সংকট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বেসরকারি সংস্থা প্রসপার গ্লোবালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাবুল আধুনিক বিশ্বের প্রথম বড় শহর হিসেবে পরিচিত হতে পারে যেখানে সম্পূর্ণভাবে পানি ফুরিয়ে যাবে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে শহরের অনেক বাসিন্দার জন্য সেই 'ডে জিরো' বা পানির চূড়ান্ত সংকটকাল ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

খায়ের খানা এলাকার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী শাজিয়া তার স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তাদের বাড়িতে নেই কোনো পানির সংযোগ। পানির ট্যাংকার কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শাজিয়াকে প্রতিদিন সন্তানদের নিয়ে স্থানীয় মসজিদে যেতে হয়। সেখানে হ্যান্ডপাম্প থেকে পানি সংগ্রহ করতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং ভারী বালতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। শাজিয়া বলেন, পিঠে ব্যথা হয় এবং স্কুল শেষে সন্তানদের এভাবে টেনে নিয়ে বের হওয়াটা তার জন্য কষ্টকর, কিন্তু এছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

কাবুলের প্রধান পানির উৎস হলো ভূগর্ভস্থ পানি। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল, যেখানে মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বাসিন্দার পাইপলাইনের পানি ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। গত এক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১০০ ফুট নিচে নেমে গেছে এবং শহরের প্রায় অর্ধেক গভীর নলকূপ শুকিয়ে গেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত পানি উত্তোলন এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আফগানিস্তান টানা ছয় বছর ধরে খরার কবলে রয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে তুষারপাত গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল এবং ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তুষারপাত প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।

২০০১ সালে কাবুলের জনসংখ্যা ছিল ১০ লাখের কম, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার দরিদ্ররা। বিশ্লেষকদের মতে, দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পানি কিনতে ব্যয় করছে, অথচ জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবারের আয়ের ৩ শতাংশ বা তার কম পানি বাবদ ব্যয় হওয়া সহনীয়। এছাড়া শহরের অনেক এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য ও আর্সেনিকের কারণে পান অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফাইজি কাবুলের এই পরিস্থিতিকে 'মানবিক বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, সংকট মোকাবিলায় সময় খুব কম। সংকট নিরসনে শাহতুত বাঁধ নির্মাণ এবং পানশির নদী থেকে ১২৪ মাইল পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি আনার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কাবুলের বাসিন্দা সাইদ আগা বলেন, বহু বছর আগে তারা বোমা ও রকেট থেকে বাঁচতে কাবুল থেকে পালিয়েছিলেন, এখন পানির অভাবে হয়তো আবার পালাতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin