ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা চুক্তির আওতায় হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান-তুরস্ক ঢাকায় কোচিং করতে আসা কিশোর রাকিবকে হত্যার পর নীলফামারীতে লাশ গুম ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের ক্ষতি করতে পারবে না: সালাউদ্দিন টুকু নিকাব পরিহিত ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাল ইসলামী ছাত্রীসংস্থা জগন্নাথপুরে নবনিযুক্ত ৭৮ প্রাথমিক শিক্ষককে বরণ করল শিক্ষক সমিতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম তোলার শেষ দিনে আবেদনের উপচে পড়া ভিড় উত্তরায় বাসে ধাক্কা: ঢাকা কলেজ ও আইইউবিএটি শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা শ্রমিকের অধিকার রক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেপ্টেম্বরে ফের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ওষুধশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি, রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

ডিসেম্বরে গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপের অংশ হিসেবে গত বুধবার প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই আরও উচ্চ চাপে আরেকটি পরীক্ষা চালানো হবে। এর আগে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসে তাপ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় তা পিছিয়ে গিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবারের পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ ভাল্‌ভগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই এই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এতে প্রথম ইউনিটের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত চাপ কমানোর পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এ সময় ভাল্‌ভ খোলা ও বন্ধ হওয়ার সময়, সাড়া দেওয়ার গতি, সতর্কসংকেত এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় চাপ ও তাপমাত্রার তথ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হয়ে বুধবার সকালে নিরাপত্তা ভালভের ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপের পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়। খুব দ্রুতই ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরবর্তী পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, মেগাপ্যাসকেল হলো চাপের মাত্রা। পারমাণবিক চুল্লিপাত্রে স্বাভাবিক চাপ থাকে ১৬ মেগাপ্যাসকেল। এই পরীক্ষা সফল হওয়ার অর্থ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালানো সম্ভব। তবে উচ্চ চাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ১৮ মেগাপ্যাসকেলের পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা অবাস্তব নয় এবং চেষ্টা করলে তা অর্জন করা সম্ভব।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, একটি ত্রুটির কারণে প্রকল্পটির কাজ দুই মাস পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে এখন সবকিছু ঠিকঠাকভাবে এগোচ্ছে এবং পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। প্রতি সপ্তাহে একটি করে জ্বালানির চালান আসার কথা রয়েছে। অল্প কিছু পরীক্ষা শেষ হলেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রথম ইউনিটের সব জ্বালানি ২০২৩ সালেই রূপপুরে পৌঁছেছিল এবং গত মে মাসে চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ শেষ হয়। গত শুক্রবার রাতে প্রথম ইউনিটের জন্য একটি অতিরিক্ত জ্বালানির চালান দেশে আসে, যা শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানিও প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার এর প্রথম চালান দেশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে এ দফায় মোট ৯টি চালান আসার কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক জ্বালানি চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না বলে তা আগে থেকে মজুত রাখা জরুরি। প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর কোনো জ্বালানি অ্যাসেম্বলি নষ্ট হলে তা দ্রুত বদলাতে অতিরিক্ত জ্বালানি আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের আগে দ্বিতীয় ইউনিটের সব জ্বালানি রূপপুরে এনে মজুত করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরু হতে পারে। এই শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা গেলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পরীক্ষামূলক এই উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর টানা ৭ থেকে ৮ মাস চলতে পারে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি আসার পর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। can- ক কমিশনের অধীনে এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের মূল খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের খরচ ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।.বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা ৭-৮ মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন।

এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা ৭-৮ মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিসেম্বরে গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ

আপডেট সময় : ১২:৫৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপের অংশ হিসেবে গত বুধবার প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই আরও উচ্চ চাপে আরেকটি পরীক্ষা চালানো হবে। এর আগে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসে তাপ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় তা পিছিয়ে গিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবারের পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ ভাল্‌ভগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই এই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এতে প্রথম ইউনিটের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত চাপ কমানোর পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এ সময় ভাল্‌ভ খোলা ও বন্ধ হওয়ার সময়, সাড়া দেওয়ার গতি, সতর্কসংকেত এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় চাপ ও তাপমাত্রার তথ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হয়ে বুধবার সকালে নিরাপত্তা ভালভের ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপের পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়। খুব দ্রুতই ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরবর্তী পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, মেগাপ্যাসকেল হলো চাপের মাত্রা। পারমাণবিক চুল্লিপাত্রে স্বাভাবিক চাপ থাকে ১৬ মেগাপ্যাসকেল। এই পরীক্ষা সফল হওয়ার অর্থ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালানো সম্ভব। তবে উচ্চ চাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ১৮ মেগাপ্যাসকেলের পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা অবাস্তব নয় এবং চেষ্টা করলে তা অর্জন করা সম্ভব।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, একটি ত্রুটির কারণে প্রকল্পটির কাজ দুই মাস পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে এখন সবকিছু ঠিকঠাকভাবে এগোচ্ছে এবং পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। প্রতি সপ্তাহে একটি করে জ্বালানির চালান আসার কথা রয়েছে। অল্প কিছু পরীক্ষা শেষ হলেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রথম ইউনিটের সব জ্বালানি ২০২৩ সালেই রূপপুরে পৌঁছেছিল এবং গত মে মাসে চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ শেষ হয়। গত শুক্রবার রাতে প্রথম ইউনিটের জন্য একটি অতিরিক্ত জ্বালানির চালান দেশে আসে, যা শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানিও প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার এর প্রথম চালান দেশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে এ দফায় মোট ৯টি চালান আসার কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক জ্বালানি চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না বলে তা আগে থেকে মজুত রাখা জরুরি। প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর কোনো জ্বালানি অ্যাসেম্বলি নষ্ট হলে তা দ্রুত বদলাতে অতিরিক্ত জ্বালানি আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের আগে দ্বিতীয় ইউনিটের সব জ্বালানি রূপপুরে এনে মজুত করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরু হতে পারে। এই শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা গেলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পরীক্ষামূলক এই উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর টানা ৭ থেকে ৮ মাস চলতে পারে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি আসার পর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। can- ক কমিশনের অধীনে এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের মূল খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের খরচ ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।.বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা ৭-৮ মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন।

এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা ৭-৮ মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo