পুঠিয়ায় বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ রোপণ করলেন সাবেক দাতা সদস্য
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ রোপণ এবং শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লোকজন নিয়ে এই কাজ করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন এবং শিক্ষকদের কার্যালয়ে আগে থেকেই লাগানো তালার ওপর আরেকটি তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিদ্যালয়টির নাম ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এর নাম ছিল মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। রেজুলেশন অনুযায়ী, তৎকালীন দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এই নাম প্রস্তাব করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তবে এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে আজাদ আলী বলেন, তিনি নিঃশর্তভাবে জমি দিয়েছিলেন এই আশায় যে সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ হবে এবং তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ চাকরি পাবেন। কিন্তু কলেজ না হওয়ায় এবং পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, আজাদ আলী জমি দেওয়ার সময় ভোকেশনাল ও কলেজ শাখায় ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির দাবি করেছিলেন। কমিটি তাতে সম্মত হয়ে জমি রেজিস্ট্রি নেয়। প্রধান শিক্ষক জানান, কলেজ শাখা চালুর আগেই আজাদ আলীর পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি কর্মরত অবস্থায় ২০২২ সালে মারা যান। এরপর আজাদ আলী তাঁর ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে করিয়ে সেই নতুন পুত্রবধূকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে নিয়োগের দাবি করেন, যাতে কমিটি রাজি হয়েছিল। সবকিছুর রেজুলেশন থাকা সত্ত্বেও আজাদ আলী ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলা করেন, যা এখনো চলমান।
স্থানীয় দোকানদার লাল মোহাম্মদ জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেলেও নিয়মিত ক্লাস চলছিল, কিন্তু এই ঘটনার ফলে তারা নলকূপের পানিও নিতে পারছেন না। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম আজাদ আলীর দাবি অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে এবং পাঠদান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন এবং ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে এসে তিনি দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেবেন।
৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করতে বলেছিলেন।



























