ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলাকারী ‘রহস্যময়’ কো-পাইলটকে নিয়ে নতুন তথ্য
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে ক্যাপ্টেনকে হামলার ঘটনার পর সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামিকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ওমানের এই নাগরিকের পরিচয় ও কথিত উগ্রপন্থি মতাদর্শ নিয়ে তদন্ত চলছে। গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এটিকে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
উড্ডয়নের পর বিমানটি যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছিল, তখন হঠাৎ করে দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মিনিটে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়। ওই সময় ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী পাইলট আল-হামামি জরুরি ব্যবহারের কুঠার এবং ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে ঢুকে হামামিকে কাবু করেন। পরবর্তীতে বিমানে থাকা দুই জন রিজার্ভ পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উড্ডয়নটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান।
তদন্তকারীরা এখন হামাম আল-হামামির অতীত ও তার উগ্রপন্থি মতাদর্শের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, হামামির জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং তার মা সিরিয়ার নাগরিক। তিনি জীবনের বেশ কয়েক বছর আমিরাতেই কাটিয়েছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উগ্রপন্থি মতাদর্শের উদ্বেগের কারণে ওমানি কর্তৃপক্ষ একসময় তাকে নিজ দেশে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। এছাড়া একই কারণে তাকে পাইলট প্রশিক্ষণ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, হামামি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাকরি ছাড়েন। এরপর জুনে তিনি রয়্যাল এয়ার মারকে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেটিও ছেড়ে দেন। যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, হামামি সেখান থেকে বিমান ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন, তবে সেখানে কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এই ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। হামামি একাই এই হামলা চালিয়েছিলেন নাকি কোনো উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপসাগরীয় এবং দুইজন পশ্চিমা কূটনীতিক বার্তাসংস্থা এপিকে নিশ্চিত করেছেন যে হামামিই এই হামলার প্রধান সন্দেহভাজন। আবুধাবির নেতৃত্বে বর্তমানে এই হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সহযোগী এবং সব ধরনের শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
ককপিটে সেদিন কী ঘটেছিল?গত বুধবার সকাল ৭টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এফজেড১০৭৩। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।প্রায় দুই মিনিটে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায় বিমানটি। এরপর আবার ওপরে উঠে ফের নি



























