রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: বহিষ্কৃত বিএনপি নেতাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ
- আপডেট সময় : ০৩:১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় দলের সাবেক নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় বুধবার রাতে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি রাড্ডায় হামলার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করেছেন। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দারুসসালাম থানার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমান। হামলার পর ঘটনাস্থলে যে 'সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি'র সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল, তার সঙ্গেও এসব ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশ এখনো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারলেও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানান, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম খোকন এবং শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আলম রয়েছেন। এছাড়া ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরের চালক শহীদুল ইসলাম এবং সমবায় সমিতির চারজন সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলাকারীদের মধ্যে শাহ আলী মাজার এলাকার তিন ভাসমান তরুণকেও শনাক্ত করা হয়েছে, যারা টাকার বিনিময়ে অংশ নিয়েছিল।
২৫ সেপ্টেম্বর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে হামলাকারীরা জড়ো হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে রাত ১২টা ৫ মিনিটে লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হতে দেখা গেছে। হামলাকারীরা ছিন্নমূল মার্কেটের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে এবং মাথায় কাপড় ও মুখোশ বেঁধে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালায়। হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, আবুল কালাম, মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল এবং হাফিজুর রহমান সাদা মাইক্রোবাসে ঘুরে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদ্য পদত্যাগ করা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক নেতা-কর্মী এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি গত বুধবার পদত্যাগ করেছেন। পুলিশের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।


























