বগুড়ায় বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিসে যাত্রী সংকট ও আর্থিক লোকসান
- আপডেট সময় : ১২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বগুড়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মহিলা বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সেবাটি চালুর এক মাস পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রী সাড়া মিলছে না। ৪৫ আসনের বাস দুটির অধিকাংশ আসনই দিনের অধিকাংশ সময় ফাঁকা থাকছে, যার ফলে বিআরটিসিকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।
গত ১৮ আগস্ট বগুড়া বিআরটিসি বাস ডিপোতে এই সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয় এবং পরদিন থেকেই দুটি বাস নির্ধারিত রুটে চলাচল শুরু করে। একটি বাস মাটিডালী হয়ে শেরপুর এবং অন্যটি বনানী হয়ে মোকামতলা রুটে নিয়মিত চলছে। বিআরটিসি ডিপোর তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরের বাসটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় ডিপো থেকে ছেড়ে মাটিডালী হয়ে শেরপুর যায় এবং বিকেল ৪টায় সেখান থেকে বগুড়ায় ফিরে আসে। অন্যদিকে, মোকামতলার বাসটি দুপুর ১২টায় ডিপো থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বিকেল ৪টায় ফিরে আসে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সূচির সাথে তাদের কর্মঘণ্টার মিল না থাকায় এই বাস সেবা গ্রহণে তারা আগ্রহী হতে পারছেন না। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের জন্য এই সময়সূচি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাসে স্কুল-কলেজের কিছু ছাত্রী থাকলেও কর্মজীবী নারীর সংখ্যা খুবই কম। শেরপুরের এক কর্মজীবী নারী শামিমা বেগম জানান, সকাল ৭টায় বাস ছাড়ায় অনেক চাকরিজীবী নারী এই সুবিধা নিতে পারছেন না। মোকামতলা রুটের ক্ষেত্রে দুপুর ১২টায় বাস ছাড়ায় কর্মস্থলমুখী নারীরা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, ফলে বাধ্য হয়ে তাদের অটোরিকশা বা ইজিবাইকের মতো বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
আর্থিক সংকটের বিষয়ে বিআরটিসি বগুড়া ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) শাহিনুর ইসলাম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ভাড়া বাড়ানো হয়নি এবং যাত্রীদের অর্ধেক ভাড়ায় সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বগুড়া থেকে শেরপুরের সাধারণ বাসভাড়া যেখানে ৭২ টাকা, সেখানে মহিলা বাসে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা। তবুও যাত্রী আকর্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাস পরিচালনায় জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, ৬ জন নারী ও একজন পুরুষ কর্মীর বেতন এবং দৈনিক ১ হাজার ৪০০ টাকা খাবার ভাতাসহ প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে। বর্তমানে বাস দুটি থেকে দৈনিক আয় দুই হাজার টাকার কিছু বেশি, যেখানে শুধু ডিজেল বাবদই মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।


























