ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার মৃত্যুতে সাদামাটা জন্মদিন কাটাচ্ছেন শ্রাবণ্য তৌহিদা নতুন ভিডিওতে সীতার রণরূপে সাই পল্লবী, রামায়ণে রণবীর-যশ যমুনায় কোটি টাকার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস করলো মৎস্য বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা ও গরুর মাংস ঘিরে রাজনীতির বিশ্লেষণ রায়পুরে মন্দিরে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে হাসপাতালে চেলসি গোলরক্ষক মার্তিনেজ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা: শামা ওবায়েদ মতলব উত্তরে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক কলকাতার পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী ও শিশুসহ নিহত ১৮ মাছরাঙা টিভির দুঃখ প্রকাশে ক্ষুব্ধ পরীমণি, নিজেকেই দায়ী করলেন অপরাধী হিসেবে

মানবাধিকার উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারের দেড় হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকার মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। কুয়ালালামপুর জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে মিয়ানমারের যে পাঁচ হাজার নাগরিক ‘স্বেচ্ছায়’ দেশে ফিরতে রাজি হয়েছে, মঙ্গলবার পাঠানো দলটি সেই পাঁচ হাজার জনেরই প্রথম অংশ। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে এই প্রত্যাবাসন অভিবাসীদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

মঙ্গলবার বিকেলে এএফপির সাংবাদিকেরা দেখেছেন, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে মালয়েশিয়ার লুমুত নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ ছেড়ে যায়। এর মধ্যে ছিল ‘থান লুইন’ নামের একটি হাসপাতাল-জাহাজ ও উদ্ধারকারী যান এবং ‘মোয়াত্তামা’ নামের উভচর ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম জাহাজ। এই জাহাজগুলোকে অতীতেও মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সরকারের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক তালিকার ভিত্তিতে ১ হাজার ৪৭৬ জন ব্যক্তিকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এটি মালয়েশিয়ায় আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের সরকারি পরিকল্পনার অংশ। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব আশ্রয়প্রার্থীর ৯৫ শতাংশই মিয়ানমারের নাগরিক এবং এই দীর্ঘস্থায়ী বিষয়টি দেশের ওপর আর্থিক বোঝা ও সামাজিক সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করেছে।

তবে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জেনেভায় সংস্থাটির মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাউকে এমন কোনো দেশে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তারা নির্যাতন, নিপীড়ন বা জীবন ও স্বাধীনতার হুমকির মুখে পড়তে পারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ২০২১ সাল থেকে গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতে পারে, যা গণহত্যার শামিল। প্রথম ধাপে পাঠানো এই দলে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা মালয়েশিয়া বা মিয়ানমার—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবাধিকার উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারের দেড় হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

আপডেট সময় : ০৭:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকার মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। কুয়ালালামপুর জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে মিয়ানমারের যে পাঁচ হাজার নাগরিক ‘স্বেচ্ছায়’ দেশে ফিরতে রাজি হয়েছে, মঙ্গলবার পাঠানো দলটি সেই পাঁচ হাজার জনেরই প্রথম অংশ। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে এই প্রত্যাবাসন অভিবাসীদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

মঙ্গলবার বিকেলে এএফপির সাংবাদিকেরা দেখেছেন, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে মালয়েশিয়ার লুমুত নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ ছেড়ে যায়। এর মধ্যে ছিল ‘থান লুইন’ নামের একটি হাসপাতাল-জাহাজ ও উদ্ধারকারী যান এবং ‘মোয়াত্তামা’ নামের উভচর ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম জাহাজ। এই জাহাজগুলোকে অতীতেও মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সরকারের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক তালিকার ভিত্তিতে ১ হাজার ৪৭৬ জন ব্যক্তিকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এটি মালয়েশিয়ায় আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের সরকারি পরিকল্পনার অংশ। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব আশ্রয়প্রার্থীর ৯৫ শতাংশই মিয়ানমারের নাগরিক এবং এই দীর্ঘস্থায়ী বিষয়টি দেশের ওপর আর্থিক বোঝা ও সামাজিক সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করেছে।

তবে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জেনেভায় সংস্থাটির মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাউকে এমন কোনো দেশে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তারা নির্যাতন, নিপীড়ন বা জীবন ও স্বাধীনতার হুমকির মুখে পড়তে পারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ২০২১ সাল থেকে গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতে পারে, যা গণহত্যার শামিল। প্রথম ধাপে পাঠানো এই দলে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা মালয়েশিয়া বা মিয়ানমার—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo