ইসিবি চত্বরে আবাসন প্রকল্পে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়া
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে সংঘটিত হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শাহরিয়া মাহমুদকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ কাঠা জমি উদ্ধার করে দিলে ওই জমির একটি অংশের মালিকানা পাওয়ার প্রলোভন পেয়ে তিনি এই হামলার দায়িত্ব নেন।
হামলাটি সফল করার জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের নেতা শাহ আলম অনিকসহ বেশ কয়েকজনের সহায়তায় পল্লবী ও ভাসানটেকের বস্তি থেকে ভাড়াটে লোক সংগ্রহ করা হয়। গত শনিবার রাতে দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রকল্পের ফটক, নির্মাণাধীন ভবন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে তাদের মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার মিজানুর রহমান নামে মামলার ৯ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এর আগে রোববার মুন্না, মামুন ও আসলামকে এবং সোমবার শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে আদালতে হাজির করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুব্রত দেবনাথ তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত বুধবার শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে দুই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সূত্রমতে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৩৫ কাঠা জমি প্রকল্পের ভেতরে রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিউগিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছে। অন্যদিকে, নিউগিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী তাদের কাছে ১৫ কাঠা জমি বিক্রি করেছেন এবং বাকি ৮ কাঠা ও অন্যান্যদের ১২ কাঠা জমি নিয়ে যাতায়াতের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, বিক্রি করা ১৫ কাঠা জমিও তিনি দখলের চেষ্টা করছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে শাহরিয়া মাহমুদের পূর্বপরিচয় ছিল, যার সূত্র ধরেই জমি উদ্ধার ও ফটক ভাঙার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া। ঘটনার পর রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়া মাহমুদসহ গ্রেপ্তারকৃতরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।



























