গোপনে আরব আমিরাত সফর করলেন নেতানিয়াহু, নেপথ্যে ইরান ও বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। এই সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি ইসরাইলি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সিএনএনের কাছে দেয়া তথ্যানুযায়ী, এই বৈঠকে ইরান ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। সিএনএন এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরাইল কোনো সতর্কবার্তা পেয়েছিল কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। হারেৎজ ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের বড় ধরনের হামলার কয়েক দিন আগেই শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। এছাড়া দ্য আটলান্টিক ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মিসরের পক্ষ থেকেও একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর এসব দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, কোনো সতর্কবার্তা তারা পায়নি এবং নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই এসব ‘মনগড়া মিথ্যা’ ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে সামনে এনে ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহির দাবি জোরদার করেছে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট শনিবার মন্তব্য করেন যে, সতর্কবার্তার বিষয়টি নেতানিয়াহুর ‘অন্ধত্ব, ঔদ্ধত্য ও দায়িত্বহীনতার’ প্রমাণ।
এর আগে মে মাসেও নেতানিয়াহুর দপ্তর দাবি করেছিল যে, মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি গোপনে আমিরাত সফর করেছিলেন। তবে আমিরাত তখন সেই দাবি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, চলমান যুদ্ধে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি আমিরাতে ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের কথাও শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর কোনো আনুষ্ঠানিক সফর প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি।


























