নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যুর শঙ্কা: বিল গেটস
- আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এআই যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তবে তা মানবজাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে ভুল মানুষের হাতে এআইয়ের ক্ষমতা চলে গেলে তা এমন সব ঘটনার জন্ম দিতে পারে, যার ফলে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে আলাপকালে গেটস বলেন, এআই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কখনোই পর্যাপ্ত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য আইনপ্রণেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে এবং এই ব্যবস্থাগুলো বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি প্রশাসনিক চাপ তৈরি হলেও এআইয়ের উন্নয়নের গতি এতে নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না বলে মনে করেন তিনি।
এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে বলতে গিয়ে গেটস জানান, ক্ষতিকর উদ্দেশ্য থাকা ব্যক্তিদের হাতে বর্তমানের শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি একটি বিধ্বংসী অস্ত্রে পরিণত হতে পারে। এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা ঠেকাতে ‘কিল সুইচ’ ব্যবহারের ধারণা নিয়ে আলোচনা হলেও গেটস মনে করেন, বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবস্থায় শুধু একটি সুইচের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কারণ কম্পিউটার ব্যবস্থা পুরোপুরি দখল করার মতো পর্যায়ে এআই এখনো পৌঁছায়নি।
এআই নিয়ে গেটসের এই সতর্কবার্তা নতুন নয়। এর আগে আগস্ট মাসে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের একটি নিবন্ধেও তিনি প্রযুক্তিটির ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারের পক্ষে মত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রেও এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স উন্নত এআইয়ের বিকাশ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবসংবলিত একটি আইন উত্থাপন করেছেন। তবে এসব আশঙ্কার পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা নিয়ে গেটস ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তার মতে, এআইয়ের বিকাশ থামিয়ে দেওয়া সমাধান নয়, বরং সঠিক আইন, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।





























