সিলেটে বাণিজ্য মেলা নিয়ে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রায় তিন বছর বিরতির পর সিলেটে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ঐতিহ্যবাহী শাহি ঈদগাহ মাঠে এই মেলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে 'সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই মেলার প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বর্তমানে আয়োজকরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
মেলার ঘোষণার পরপরই 'বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা' এবং 'সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ'-এর ব্যানারে একদল ব্যবসায়ী মেলা বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর তারা জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। মেলা পণ্ড করার পেছনে বৈশ্বিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরীক্ষা ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো অজুহাত ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবং কোনো একটি সিন্ডিকেট চুক্তি পাওয়ার পর প্রতিপক্ষ গ্রুপের ব্যবসায়ী নেতাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী 'সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ'-এর এক অনুষ্ঠানে মেলাটিকে 'অসময়ের আয়োজন' আখ্যা দিয়ে শৃঙ্খলায় আনার কথা বলেন। অথচ, মেলা আয়োজক প্রতিষ্ঠান উইমেন চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদে মন্ত্রীর সহধর্মিনী সামা হক চৌধুরী প্রভাবশালী পদে রয়েছেন। মন্ত্রীর এই অবস্থান পরিবর্তনকে স্থানীয় রাজনৈতিক মেরুকরণ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সাথে স্থানীয় রাজনীতির অদৃশ্য পরাশক্তির অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
নারী উদ্যোক্তারা মেলা আয়োজনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। ২২ সেপ্টেম্বর তারা জেলা প্রশাসক ও সিলেটে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে স্থবির হয়ে পড়া নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে এই মেলা অপরিহার্য। তারা অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারী উদ্যোক্তাদের দমিয়ে রেখে অস্তিত্ব সংকটে ফেলার চক্রান্ত করছে। দাবি আদায়ে তারা প্রয়োজনে সিলেটের রাজপথে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মেলা বন্ধের কোনো পরিকল্পনা প্রশাসনের নেই। তিনি বলেন, প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টি ও বিনোদনের জন্য মেলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, তাদের যুক্তি অমূলক না হলেও নারী উদ্যোক্তাদের বিষয়টিও ব্যবসায়ীদের বিবেচনায় রাখা জরুরি। সরকারি কোনো নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



























