ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাড়াশে গভীর রাতে বাঁশকল ডিউটি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি আগ্রাসন চালালে নতুন সামরিক প্রযুক্তির ‘চমক’ দেখাবে ইরান জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ১০৬ জনকে মুক্তি আসিয়ান কাপে টিকে থাকতে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া ম্যাচে চোখ বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই ইরানের: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মুনাফা ছাড়ার অঙ্গীকার দিয়ে টাকা পাচ্ছেন আমানতকারীরা রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার ডিসেম্বরেই ফিরছেন শেখ হাসিনা? গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সব রুট শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে মিশ্র প্রবণতা, ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধি

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচন বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিকে সরিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এজাজ আহমদ চৌধুরীকে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর চেম্বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অন্য অংশটি ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই সিলেট চেম্বার অব কমার্স নিয়ে নানা নাটকীয়তা চলছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রায় এক বছর ধরে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। সম্প্রতি তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে আগামী ৫ নভেম্বর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছিলেন। সূচি অনুযায়ী, রোববার ছিল মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার শেষ দিন।

তবে এই ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলেন সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা। তারা এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। গত সপ্তাহে সিটি প্রশাসক উভয় প্যানেলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চলমান নির্বাচনের তফশিল বাতিল করা হয়। অপর এক চিঠিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাকে সরিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এজাজ আহমদ চৌধুরীকে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সিলেট চেম্বারের বিদায়ী প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, নির্বাচনের তফশিল বাতিল ও নতুন প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা হাতে পেয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী রোববার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ চৌধুরীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ চৌধুরী জানান, তিনি নিয়োগের বিষয়টি শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একটি গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা তৈরি করে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করাই তার মূল লক্ষ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের শীর্ষ নেতা এহতেশামুল হক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা চেম্বারে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারতেন না। নতুন ব্যবসায়ী প্রশাসক সময় নিয়ে সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি করে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবেন বলে তারা আশাবাদী।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা। পরিষদের শীর্ষ নেতা ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে চেম্বার নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা উচিত ছিল। বারবার ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার হরণ করাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না তারা। সিভিলিয়ান বা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দিয়ে নির্বাচনের আয়োজন পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে এবং এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ

আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচন বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিকে সরিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এজাজ আহমদ চৌধুরীকে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর চেম্বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অন্য অংশটি ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই সিলেট চেম্বার অব কমার্স নিয়ে নানা নাটকীয়তা চলছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রায় এক বছর ধরে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। সম্প্রতি তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে আগামী ৫ নভেম্বর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছিলেন। সূচি অনুযায়ী, রোববার ছিল মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার শেষ দিন।

তবে এই ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলেন সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা। তারা এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। গত সপ্তাহে সিটি প্রশাসক উভয় প্যানেলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চলমান নির্বাচনের তফশিল বাতিল করা হয়। অপর এক চিঠিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাকে সরিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এজাজ আহমদ চৌধুরীকে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সিলেট চেম্বারের বিদায়ী প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, নির্বাচনের তফশিল বাতিল ও নতুন প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা হাতে পেয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী রোববার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ চৌধুরীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ চৌধুরী জানান, তিনি নিয়োগের বিষয়টি শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একটি গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা তৈরি করে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করাই তার মূল লক্ষ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের শীর্ষ নেতা এহতেশামুল হক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা চেম্বারে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারতেন না। নতুন ব্যবসায়ী প্রশাসক সময় নিয়ে সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি করে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবেন বলে তারা আশাবাদী।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা। পরিষদের শীর্ষ নেতা ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে চেম্বার নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা উচিত ছিল। বারবার ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার হরণ করাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না তারা। সিভিলিয়ান বা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দিয়ে নির্বাচনের আয়োজন পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে এবং এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin