ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে মাদরাসার ছাদে খেলার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৫ শিক্ষার্থী দগ্ধ মিরপুরে রাড্ডা হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দখল, নাহিদ ইসলামের তীব্র ক্ষোভ জাসদের কার্যালয়ে অভিযান, ২৮৯ জনকে আটক করল পুলিশ রাজধানীর তিতুমীর কলেজে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪ ফিলিস্তিনের শাসন ফিলিস্তিনিদের হাতেই থাকবে: চীন শিবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ হারালেন আব্দুর রহমান সামুদ্রিক খাতের আধুনিকায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই বন্দির ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যু এক সপ্তাহে ৪ কনসার্টে শিরোনামহীন ব্যান্ডের ব্যস্ততা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার প্রস্তাব ইরানের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তাবলি পূরণ করা হলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই রূপরেখা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ওয়াশিংটনের ওপর।

গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং হরমুজ প্রণালি অন্তত আংশিকভাবে খুলে দেওয়া। চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। চুক্তিতে আরও বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতে ওমানের সাথে নৌ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা করবে। তবে দুই পক্ষ পুনরায় হামলা শুরু করলে ওই সমঝোতা ভেস্তে যায়।

ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিবিসিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা হচ্ছে। তবে একই মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে তাদের হাতে থাকায় তারা শক্ত অবস্থানে আছেন এবং কোনো তাড়াহুড়ো নেই। এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে সন্দিহান এবং ইরানের ওপর নতুন করে বোমা হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে রয়টার্স এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা থাকলে এখনই সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ নিজেদের কোনো অধিকারেই ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, যার জবাবে আরাগচি বলেছেন, হুমকি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাতের গুরুত্ব বিবেচনায় ইরান তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সাথেও যোগাযোগ করেছে। এদিকে, ইরান ও ওমানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার বিষয়টি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে এবং সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার প্রস্তাব ইরানের

আপডেট সময় : ০২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তাবলি পূরণ করা হলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই রূপরেখা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ওয়াশিংটনের ওপর।

গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং হরমুজ প্রণালি অন্তত আংশিকভাবে খুলে দেওয়া। চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। চুক্তিতে আরও বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতে ওমানের সাথে নৌ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা করবে। তবে দুই পক্ষ পুনরায় হামলা শুরু করলে ওই সমঝোতা ভেস্তে যায়।

ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিবিসিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা হচ্ছে। তবে একই মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে তাদের হাতে থাকায় তারা শক্ত অবস্থানে আছেন এবং কোনো তাড়াহুড়ো নেই। এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে সন্দিহান এবং ইরানের ওপর নতুন করে বোমা হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে রয়টার্স এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা থাকলে এখনই সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ নিজেদের কোনো অধিকারেই ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, যার জবাবে আরাগচি বলেছেন, হুমকি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাতের গুরুত্ব বিবেচনায় ইরান তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সাথেও যোগাযোগ করেছে। এদিকে, ইরান ও ওমানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার বিষয়টি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে এবং সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo