ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে পড়েছিল এমি রসমের কোহলির মাইলফলক ও গিলের সেঞ্চুরি: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে ভারতের জয় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কটিয়াদীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল চুয়েটে ‘৫৬?’ লেখা কার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপে নানা আয়োজন চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ, সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনে ১৩ জনের মৃত্যু বেলকুচিতে পারিবারিক কলহে গুলি, গ্রেপ্তার ২ এমপির মদতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের ঘটনায় টিআইবির গভীর উদ্বেগ সিরাজগঞ্জে অভিযাত্রী সংসদের নতুন বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

আশুগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, স্বজনকে পিটুনি ও পুলিশের উদ্ধার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছয় বছরের এক মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির এক স্বজনকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটির মায়ের ভাষ্যমতে, শুক্রবার তাদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে পানি এনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। পরে মা তার ছোট ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের ঘরের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে তার সন্দেহ হয়। মা জানান, তিনি অভিযুক্তকে মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। পরে পাশের একটি ঘরে তিনি মেয়ের হাত-পা বাঁধা ও অচেতন দেহ দেখতে পান।

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। শিশুটির লাশ বেলা আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

এদিকে, ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটক করে একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বেলা সোয়া তিনটার দিকে বাড়িটি ঘিরে রাখে। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, প্রায় তিন থেকে চার হাজার উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সহায়তায় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযুক্তকে হেলমেট পরিয়ে ওই বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। এ সময়ও স্থানীয়রা তার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অভিযুক্তকে গাড়িতে তুলে আশুগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আশুগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, স্বজনকে পিটুনি ও পুলিশের উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:১৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছয় বছরের এক মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির এক স্বজনকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটির মায়ের ভাষ্যমতে, শুক্রবার তাদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে পানি এনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। পরে মা তার ছোট ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের ঘরের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে তার সন্দেহ হয়। মা জানান, তিনি অভিযুক্তকে মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। পরে পাশের একটি ঘরে তিনি মেয়ের হাত-পা বাঁধা ও অচেতন দেহ দেখতে পান।

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। শিশুটির লাশ বেলা আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

এদিকে, ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটক করে একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বেলা সোয়া তিনটার দিকে বাড়িটি ঘিরে রাখে। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, প্রায় তিন থেকে চার হাজার উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সহায়তায় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযুক্তকে হেলমেট পরিয়ে ওই বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। এ সময়ও স্থানীয়রা তার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অভিযুক্তকে গাড়িতে তুলে আশুগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo