রিকশা চালক থেকে হ্যাকিং সম্রাট: নাটোরের ওহিদুলসহ গ্রেফতার ৬
- আপডেট সময় : ১০:১০:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

মাদ্রাসার পড়াশোনা ছেড়ে দিনমজুরি এবং পরবর্তীতে রিকশা চালানো—এভাবেই জীবন শুরু করেছিলেন নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রাব্বেল মোল্লার ছেলে ওহিদুল মোল্লা (৩২)। তাঁর চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা জানান, বাবার মৃত্যুর পর অভাবের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি ওহিদুল। তবে প্রায় পাঁচ বছর আগে রিকশা চালানো ছেড়ে তিনি স্থানীয় কয়েকজন হ্যাকারের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং দ্রুত হ্যাকিংয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওহিদুলের তত্ত্বাবধানেই একটি বড় হ্যাকিং চক্র গড়ে উঠেছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অল্প সময়েই ওহিদুলের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। মোহরকয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়ির পাশাপাশি বিলমাড়িয়ায় পদ্মা নদীতীরে তিনি একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িটি উঁচু ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি মাত্র ফটক। স্থানীয়দের যাতায়াত কম থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে তরুণদের আনাগোনা দেখা যেত। পুলিশের দাবি, কবুতরের খামারের একটি ঘরকে হ্যাকিং কার্যক্রমের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন ওহিদুল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওই কক্ষে স্মার্ট মনিটর, ওয়াই-ফাই সংযোগ ও খাট ছিল, যা বাইরে থেকে দেখলে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জায়গা বলে বোঝার উপায় ছিল না।
ওহিদুল বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি দাবি করতেন, কবুতর ও মহিষ চুরি ঠেকাতে এই ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, ক্যামেরাগুলো গবাদিপশু রক্ষার পাশাপাশি পুলিশের গতিবিধি নজরদারিতেও ব্যবহার করা হতো। হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মোবাইল ফোনে অদলবদল করে ৬৮টি সিম কার্ড ব্যবহার করা হতো এবং সিমগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছক করে লেখা থাকত। এছাড়া বিকাশ, নগদ ও রকেটের লেনদেনের হিসাব রাখতে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হতো বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের অভিযোগ, অন্যের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনায় ওই গোপন কক্ষটি ব্যবহার করতেন ওহিদুল। অল্প সময়ে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য তিনি দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন এবং রাজশাহী ও পাবনায় যাতায়াতের সময় দামি গাড়ি ভাড়া করতেন। সোমবার রাতে মোহরকয়া গ্রামে ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হ্যাকিং ও মাদক কারবারের অভিযোগে ওহিদুলসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে লালপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আলামিন (২৩) নামে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) এক পুলিশ কনস্টেবলও রয়েছেন, যা নিশ্চিত করেছেন আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট দীন মোহাম্মদ।
অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হ্যাকিং ও মাদক কারবারের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের লালপুর আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ওহিদুল গ্রেফতার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করলেও শেষপর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। অপরাধীরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



























