নায়কের স্ত্রীর আপত্তিতে সিনেমা থেকে বাদ পড়েছিলেন তাপসী পান্নু
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু বর্তমানে নারীপ্রধান ও ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেশ পরিচিত। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক কথোপকথনে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের বেশ কিছু অস্বস্তিকর ও অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন, যা তখন তিনি কাজের স্বাভাবিক অংশ মনে করলেও পরে বুঝেছেন সেগুলো ছিল বৈষম্য ও ক্ষমতার অসমতা।
তাপসী জানান, একবার একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়ে তারিখ দেওয়ার পরও তাঁকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল, ছবির নায়কের স্ত্রী চাননি তাপসী সিনেমাটিতে অভিনয় করুন। এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা তিনি ২০২০ সালে ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও উল্লেখ করেছিলেন। যদিও সে সময় বা সম্প্রতি তিনি কারও নাম প্রকাশ করেননি।
শুধু সিনেমা থেকে বাদ পড়াই নয়, নিজের সংলাপ ও কণ্ঠস্বর নিয়েও অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে। তাপসী জানান, একটি ছবির ডাবিংয়ের সময় তাঁকে বলা হয়েছিল যে ছবির নায়ক তাঁর একটি সংলাপ পছন্দ করেননি, তাই সেটি বদলে দিতে হবে। ২০১৬ সালের আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ক্লোজ শট দৃশ্যে তাঁকে নায়ককে 'গেট টু হেল' বলতে হয়েছিল। পরিচালক যখন সংলাপটি বদলাতে বলেন, তাপসী তাতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রয়োজনে দৃশ্যটি মিউট করে দিতে বলেন। কিন্তু ছবি মুক্তির পর তিনি জানতে পারেন, পুরো সিনেমায় তাঁর নিজের কণ্ঠ থাকলেও ওই নির্দিষ্ট সংলাপটি অন্য একজন ডাবিং শিল্পীকে দিয়ে রেকর্ড করানো হয়েছে।
অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিজের প্রবেশদৃশ্য (এন্ট্রি সিন) নিয়েও হতাশ হতে হয়েছিল তাপসীকে। একটি ছবির প্রবেশদৃশ্যটি তাঁর ভীষণ পছন্দ হয়েছিল এবং সেটিই ছিল তাঁর সিনেমাটিতে রাজি হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। কিন্তু পরে নায়কের অংশের গুরুত্ব বাড়াতে দৃশ্যটি পরিবর্তন করা হয়। এ নিয়ে পরিচালকের কাছ থেকে পাওয়া জবাব তাঁর জন্য ছিল একটি বড় ‘রিয়েলিটি চেক’।
সহশিল্পীর পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাপসীকে। তিনি জানান, একবার তাঁকে বলা হয়েছিল যে নায়কের আগের ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি, তাই বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাপসীকে তাঁর পারিশ্রমিক কমাতে হবে। আবার অনেক সময় নায়কেরা তাঁর প্রবেশদৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুলতেন, যাতে তাঁদের নিজেদের প্রবেশদৃশ্য ম্লান না হয়ে যায়। এছাড়া সেটে লিঙ্গবৈষম্যও ছিল স্পষ্ট। শুটিংয়ের হোটেল, গাড়ি কিংবা সেটে উপস্থিত হওয়ার সময় নিয়েও অভিনেত্রীদের সঙ্গে পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় ভিন্ন আচরণ করা হতো।
পর্দায় নিজের যৌন আবেদনকে নতুনভাবে আবিষ্কারের বিষয়ে তাপসী ২০২৪ সালে বলেছিলেন, ‘হাসিন দিলরুবা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমেই প্রথম দর্শক ও নির্মাতারা তাঁকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ পান। তবে এসব প্রতিকূলতা ও বৈষম্য তাপসীর পথচলাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। ২০২০ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি এখন শুধু এমন ছবিই করতে চান যা তাঁকে প্রতিদিন আনন্দ দেবে। অনেকে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে এভাবে নিজের মতো পথ বেছে নিলে কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে, কিন্তু তাপসী তাঁর সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তাঁর মতে, তিনি যা রোজগার করছেন, তা দিয়ে তাঁর পেট চলে যাচ্ছে।
তাপসী আরও উল্লেখ করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে নারীকেন্দ্রিক ছবিতে কাজ করা অভিনেত্রীদের ওপর একটি আলাদা ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অনেক সময় বড় পুরুষ তারকারা তাঁদের বিপরীতে অভিনয় করতে দ্বিধা বোধ করেন। এতে পথটা দীর্ঘ হলেও নিজের পছন্দের কাজ করার আনন্দকেই তিনি বড় করে দেখেন। 'পিঙ্ক', 'মুল্ক', 'থাপ্পড়', 'হাসিন দিলরুবা', 'রাশমি রকেট', 'লুপ লাপেটা' কিংবা 'ডাঙ্কি'র মতো চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তাপসী আজ নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি বলেছিলেন, বড় তারকার বিপরীতে ছোট চরিত্র করতেও তাঁর আপত্তি নেই, যদি চরিত্রটি অর্থপূর্ণ হয়।
ছবিটি মুক্তির পর তাপসী জানতে পারেন, পুরো ছবিতে তাঁর নিজের কণ্ঠ থাকলেও ওই নির্দিষ্ট সংলাপটি অন্য একজনের কণ্ঠে ডাব করা হয়েছে।২০২৬ সালের আগস্টে দেওয়া আরেক কথোপকথনে এই ঘটনার আরও বিস্তারিত বর্ণনা দেন তিনি।




























