ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাড়াশে গভীর রাতে বাঁশকল ডিউটি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি আগ্রাসন চালালে নতুন সামরিক প্রযুক্তির ‘চমক’ দেখাবে ইরান জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ১০৬ জনকে মুক্তি আসিয়ান কাপে টিকে থাকতে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া ম্যাচে চোখ বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই ইরানের: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মুনাফা ছাড়ার অঙ্গীকার দিয়ে টাকা পাচ্ছেন আমানতকারীরা রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার ডিসেম্বরেই ফিরছেন শেখ হাসিনা? গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সব রুট শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে মিশ্র প্রবণতা, ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধি

গানের মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দার আইকন জাফর ইকবাল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গানের মঞ্চে যাত্রা শুরু করা জাফর ইকবাল সময়ের পরিক্রমায় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্টাইলিশ নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকার গুলশানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরেই সংগীতের পরিবেশে বড় হওয়া জাফর ইকবালের জন্য সংগীত ছিল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ এবং ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ হওয়ায় কৈশোর থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।

১৯৬৬ সালে ‘র‍্যাম্বলিং স্টোন’ নামের ব্যান্ড দল গঠনের মাধ্যমে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জাফর ইকবাল। শুধু কণ্ঠ নয়, গিটার বাজানোতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। তার এই সংগীত প্রতিভা তৎকালীন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের নজর কাড়ে। সুরকার আলাউদ্দিন আলীর সঙ্গে কাজের সুবাদে চলচ্চিত্রের আবহসংগীত তৈরিতেও যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এভাবে সংগীতের জগৎ থেকে ধীরে ধীরে তিনি চলচ্চিত্রের পর্দার কাছাকাছি চলে আসেন।

মুক্তিযুদ্ধের আগেই রুপালি পর্দায় অভিষেক হওয়া এই শিল্পী ১৯৭০ সালে ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ শেষে স্বাধীনতার পর তিনি আবারও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি প্রায় ১৫০টি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

জাফর ইকবালের অভিনয়ের বৈচিত্র্য ছিল অত্যন্ত লক্ষণীয়। রোমান্টিক তরুণ, রাগী ও দুরন্ত যুবক কিংবা জীবনযন্ত্রণায় পীড়িত হতাশগ্রস্ত চরিত্র—সব ধরনের ভূমিকাতেই তিনি নিজেকে অনায়াসে মানিয়ে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি গানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অটুট। ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ এবং ‘তুমি আমার জীবন’-এর মতো অসংখ্য গান তার ঠোঁটে জনপ্রিয় হয়েছে। সত্তর ও আশির দশকে তার চুলের স্টাইল, পোশাক এবং আধুনিক ব্যক্তিত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্টাইল আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তৎকালীন প্রচলিত নায়কের ইমেজের বাইরে গিয়ে তিনি নিজের রুচিশীল ও আধুনিক এক অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নামকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গানের মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দার আইকন জাফর ইকবাল

আপডেট সময় : ০২:১৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গানের মঞ্চে যাত্রা শুরু করা জাফর ইকবাল সময়ের পরিক্রমায় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্টাইলিশ নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকার গুলশানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরেই সংগীতের পরিবেশে বড় হওয়া জাফর ইকবালের জন্য সংগীত ছিল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ এবং ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ হওয়ায় কৈশোর থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।

১৯৬৬ সালে ‘র‍্যাম্বলিং স্টোন’ নামের ব্যান্ড দল গঠনের মাধ্যমে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জাফর ইকবাল। শুধু কণ্ঠ নয়, গিটার বাজানোতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। তার এই সংগীত প্রতিভা তৎকালীন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের নজর কাড়ে। সুরকার আলাউদ্দিন আলীর সঙ্গে কাজের সুবাদে চলচ্চিত্রের আবহসংগীত তৈরিতেও যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এভাবে সংগীতের জগৎ থেকে ধীরে ধীরে তিনি চলচ্চিত্রের পর্দার কাছাকাছি চলে আসেন।

মুক্তিযুদ্ধের আগেই রুপালি পর্দায় অভিষেক হওয়া এই শিল্পী ১৯৭০ সালে ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ শেষে স্বাধীনতার পর তিনি আবারও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি প্রায় ১৫০টি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

জাফর ইকবালের অভিনয়ের বৈচিত্র্য ছিল অত্যন্ত লক্ষণীয়। রোমান্টিক তরুণ, রাগী ও দুরন্ত যুবক কিংবা জীবনযন্ত্রণায় পীড়িত হতাশগ্রস্ত চরিত্র—সব ধরনের ভূমিকাতেই তিনি নিজেকে অনায়াসে মানিয়ে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি গানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অটুট। ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ এবং ‘তুমি আমার জীবন’-এর মতো অসংখ্য গান তার ঠোঁটে জনপ্রিয় হয়েছে। সত্তর ও আশির দশকে তার চুলের স্টাইল, পোশাক এবং আধুনিক ব্যক্তিত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্টাইল আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তৎকালীন প্রচলিত নায়কের ইমেজের বাইরে গিয়ে তিনি নিজের রুচিশীল ও আধুনিক এক অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নামকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh