প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণের প্রতিবাদে সরকারকে ‘লাল কার্ড’
- আপডেট সময় : ১২:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হাজারখানেক চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সরকারের প্রতি ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘রেড কার্ড টু বিএনপিজম’ শিরোনামে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের ভিপি কুররাতুল আইন কানিজ বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মেধাবী তরুণ-তরুণীরা রক্ত দিয়েছেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় বসেছে। অথচ নির্বাচিত হওয়ার পর সেই মেধাবী চাকরিপ্রত্যাশীদেরই হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ভাইভা নম্বর বাড়িয়ে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশের পরিবর্তে ‘মূর্খ-চাঁদাবাজভিত্তিক’ সমাজ গড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে সরকার। অবিলম্বে সুপারিশপ্রাপ্ত মেধাবীদের নিয়োগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ছাত্রসমাজের সঙ্গে বেইমানি করলে জুলাইয়ের মতো আবারও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম হাসিব বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয়করণের মাধ্যমে নিজেদের লোক বসাচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ছাত্র-জনতার ওপর জুলুম বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় সরকারের পতন নিশ্চিত। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া যাবে না এবং একইভাবে দলীয় পরিচয়ে অযোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে দলীয়করণের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
প্রতিবাদী এই সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ, সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ, ইশরাক ফাহিম হিমেল, নুসরাত জাহান জেরিন, আমিনুল ইসলাম ও জামিউল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা ‘বন্ধু কোটায় মন্ত্রী, কর্মী কোটায় চাকরি’, ‘সবার আগে বিএনপি, সবার পরে বাংলাদেশ’, ‘দলীয় নিয়োগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ডাকসু। ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে পুলিশ, এনএসআই ও ডিএসবির নেতিবাচক প্রতিবেদনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং বঞ্চিতদের প্রতিকারের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনও এ ধরনের নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়েছে। তারা গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চাকরি বাতিল না করে পুনঃতদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।



























