ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: ন্যায়বিচার পাবেন বললেন রাশেদ খাঁন অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাজার মতো যুদ্ধের উস্কানি দিলেন স্মোটরিচ সরকার বা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে রেহাই নেই: মাহদী আমিন ভোলায় মহিষ চুরি রোধে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম, ভিডিও ভাইরাল জাসদ কার্যালয়ে অভিযান: আটক ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ নেপালের হিমলুং পর্বতে তুষারধস, ১০ পর্বতারোহী ও গাইড নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বৃটিশ বিমানঘাঁটির কাছে বাড়ি খালি করল পুলিশ বিএনপি চাঁদাবাজ দল—এই ঢালাও অভিযোগের মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গাজী নজরুল বিতর্ক: সংসদ সদস্যদের আচরণ আইনের দাবি আবারও আলোচনায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য সংসদের বাইরে নৈতিক আচরণ ও দায়দায়িত্ব-সম্পর্কিত আলাদা আইন বা আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের ভেতরে এমপিদের দায়িত্ব ও আচরণ কেমন হবে, তা কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ থাকলেও সংসদের বাইরে তাঁদের নৈতিক আচরণ বা স্বার্থের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই।

সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন গাজী নজরুল। এই ঘটনার পর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষায়িত ও বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে।

সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে আইন করার লক্ষ্যে অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমলে দুজন সংসদ সদস্য দুটি বেসরকারি বিল আনলেও তা শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি। ২০০৩ সালে অষ্টম সংসদে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান ‘দ্য মেম্বার অব পার্লামেন্ট (কোড অব কনডাক্ট) বিল-২০০৩’ শিরোনামে একটি বিলের নোটিশ দিয়েছিলেন। সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদের তথ্য অনুযায়ী, বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১০ সালে নবম সংসদে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ‘সংসদ সদস্য আচরণ বিল’ উত্থাপন করেন। ২০১১ সালের মার্চে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটি পাসের সুপারিশ করলেও নবম সংসদের মেয়াদে তা আর আইনে পরিণত করা সম্ভব হয়নি। ওই বিলে এমপিদের নৈতিক অবস্থান, দায়িত্ব, স্বার্থগত দ্বন্দ্ব, আর্থিক তথ্য প্রকাশ এবং একটি সংসদীয় ‘নৈতিকতা কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তৎকালীন সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে সংসদ সদস্যদের জন্য আচরণবিধি রয়েছে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়াতে বাংলাদেশেও এমন আইন প্রয়োজন।

সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি নিয়ে অতীতেও নানা সুপারিশ এসেছে। ২০১২ সালে টিআইবি ‘নবম জাতীয় সংসদের সদস্যদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা পর্যালোচনা’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, গবেষণার আওতাভুক্ত ১৪৯ জন এমপির মধ্যে ১৪৪ জনই (৯৭ শতাংশ) প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন বরাদ্দের অপব্যবহার, অপরাধমূলক কার্যক্রম ও সরকারি ক্রয়ে প্রভাব খাটানোর মতো এক বা একাধিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এমপিদের নৈতিক স্খলনের তথ্য বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এলেও তা প্রতিকারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

২০১২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলেও এমপিদের আচরণবিধি প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, যা পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও ‘সংসদ সদস্য আচরণ’ আইন করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া ৩০টি রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এমপিদের বিশেষ অধিকারের সীমা ও দায় নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি, তবে সবাই চাইলে আচরণবিধি করা যেতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, এমপিরা হবেন সমাজের দর্পণ এবং মানুষ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখে যেভাবে শিখছে, তেমনি এমপিদের দেখেও শিখবে।

সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এমপিরা সবার জন্য আইন তৈরি করলেও নিজেদের জন্য কোনো সীমারেখা টানতে আগ্রহী নন বলে মনে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংসদ সদস্যদের আচরণ আইন বা কোড অব কন্ডাক্ট রয়েছে এবং বাংলাদেশেও এটি করা অত্যন্ত জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজী নজরুল বিতর্ক: সংসদ সদস্যদের আচরণ আইনের দাবি আবারও আলোচনায়

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য সংসদের বাইরে নৈতিক আচরণ ও দায়দায়িত্ব-সম্পর্কিত আলাদা আইন বা আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের ভেতরে এমপিদের দায়িত্ব ও আচরণ কেমন হবে, তা কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ থাকলেও সংসদের বাইরে তাঁদের নৈতিক আচরণ বা স্বার্থের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই।

সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন গাজী নজরুল। এই ঘটনার পর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষায়িত ও বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে।

সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে আইন করার লক্ষ্যে অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমলে দুজন সংসদ সদস্য দুটি বেসরকারি বিল আনলেও তা শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি। ২০০৩ সালে অষ্টম সংসদে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান ‘দ্য মেম্বার অব পার্লামেন্ট (কোড অব কনডাক্ট) বিল-২০০৩’ শিরোনামে একটি বিলের নোটিশ দিয়েছিলেন। সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদের তথ্য অনুযায়ী, বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১০ সালে নবম সংসদে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ‘সংসদ সদস্য আচরণ বিল’ উত্থাপন করেন। ২০১১ সালের মার্চে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটি পাসের সুপারিশ করলেও নবম সংসদের মেয়াদে তা আর আইনে পরিণত করা সম্ভব হয়নি। ওই বিলে এমপিদের নৈতিক অবস্থান, দায়িত্ব, স্বার্থগত দ্বন্দ্ব, আর্থিক তথ্য প্রকাশ এবং একটি সংসদীয় ‘নৈতিকতা কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তৎকালীন সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে সংসদ সদস্যদের জন্য আচরণবিধি রয়েছে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়াতে বাংলাদেশেও এমন আইন প্রয়োজন।

সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি নিয়ে অতীতেও নানা সুপারিশ এসেছে। ২০১২ সালে টিআইবি ‘নবম জাতীয় সংসদের সদস্যদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা পর্যালোচনা’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, গবেষণার আওতাভুক্ত ১৪৯ জন এমপির মধ্যে ১৪৪ জনই (৯৭ শতাংশ) প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন বরাদ্দের অপব্যবহার, অপরাধমূলক কার্যক্রম ও সরকারি ক্রয়ে প্রভাব খাটানোর মতো এক বা একাধিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এমপিদের নৈতিক স্খলনের তথ্য বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এলেও তা প্রতিকারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

২০১২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলেও এমপিদের আচরণবিধি প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, যা পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও ‘সংসদ সদস্য আচরণ’ আইন করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া ৩০টি রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এমপিদের বিশেষ অধিকারের সীমা ও দায় নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি, তবে সবাই চাইলে আচরণবিধি করা যেতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, এমপিরা হবেন সমাজের দর্পণ এবং মানুষ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখে যেভাবে শিখছে, তেমনি এমপিদের দেখেও শিখবে।

সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এমপিরা সবার জন্য আইন তৈরি করলেও নিজেদের জন্য কোনো সীমারেখা টানতে আগ্রহী নন বলে মনে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংসদ সদস্যদের আচরণ আইন বা কোড অব কন্ডাক্ট রয়েছে এবং বাংলাদেশেও এটি করা অত্যন্ত জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo