ট্রাম্পের গণমাধ্যমবিরোধী পদক্ষেপে নেপথ্যে যে নারী
- আপডেট সময় : ১১:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী নাটালি হার্পের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে তৈরি করা বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ নাটালি হার্পই ট্রাম্পকে দেখান। গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের কারণে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ক্লিপগুলো তাঁকে দেখানো হয়। এরপরই ট্রাম্প তাত্ক্ষণিকভাবে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন।
শনিবার সকালের মধ্যেই এই তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশদ্বারে আটকে দেওয়া হয় এবং তাঁদের প্রেস পাস ও পরিচয়পত্র নিষ্ক্রিয় বা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর ফলে সিএনএনের বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাও-এর আকায়লা গার্ডনারের মতো সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের বাইরের রাস্তা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে দেখা গেছে। এমএস নাও প্রতিনিধি আকায়লা গার্ডনার জানান, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি তাঁকে জানিয়েছেন যে ভেতরে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়টি তাঁর এখতিয়ারের বাইরে। এছাড়া পলিটিকোর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি শায়েন হাসলেটকেও প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এই গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি ঘটনার জন্য নয় বরং গত কয়েক বছর ধরে তাদের পক্ষপাতমূলক সংবাদ দেখে তিনি অতিষ্ঠ হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কঠোর সিদ্ধান্তে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও বিস্মিত হয়েছেন। সিএনএন এই পদক্ষেপকে সংবিধান-সুরক্ষিত সাংবাদিকতার অধিকারের ওপর বেআইনি আক্রমণ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এমএস নাও জানিয়েছে, তারা তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ওপরও আসতে পারে। শুক্রবার অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্টের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি এগুলোকে 'ভুয়া খবর' এবং 'অপদার্থ পত্রিকা' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো হোয়াইট হাউসে এই পত্রিকাগুলো আর প্রদর্শন করব না। তবে এখনও পর্যন্ত তাদের বের করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ আমরা নিইনি।’ এছাড়া বাইডেন প্রশাসনের সময় কেনা সরকারি সাবস্ক্রিপশনের বিষয়টি তুলে ধরে ট্রাম্প পলিটিকোর বিশেষ সমালোচনা করেন।

























