অসুস্থ মা ও শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডা. জুবাইদা রহমান
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া শ্রীফলতলার বাসিন্দা হারুন সানার স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও তার শিশু সন্তান হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে চিকিৎসার অভাবে ভুগছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই মা ও শিশুর যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ডা. জুবাইদা রহমান খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনার পর শনিবার রাতেই জেলা পরিষদ প্রশাসক প্রতিনিধি পাঠিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরদিন সকালে মা ও শিশুকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জায়গীর মহল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিবের তত্ত্বাবধানে এই চিকিৎসা চলছে। জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী জানিয়েছেন, মা ও শিশুটির দ্রুত সুস্থতার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সব ধরনের আর্থিক সহযোগিতা তাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিব জানান, দুলিপা পারভীন পুষ্টিহীনতায় ভুগছিলেন এবং তার যৌনাঙ্গের বাইরে একটি ফোঁড়া হয়েছিল, যা এখন শুকিয়ে আসছে। তাকে পুষ্টির জন্য মাল্টিভিটামিন স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু হোসাইনের ১২ দিন আগে চিকেন পক্স হয়েছিল, যার ফলে মুখে ও শরীরে কিছু সাদা দাগ রয়ে গেছে যা সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে। তাকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঋ-৭৫ নামক বিশেষ পুষ্টির দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মা ও শিশু দুজনেই স্বাভাবিক আছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হারুন সানা জানান, চরম দারিদ্র্যের কারণে স্ত্রী ও সন্তানের পুষ্টির চাহিদা মেটানো বা নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এখন এই সহায়তার মাধ্যমে পরিবারটিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এবং মা ও শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তাদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।





























