ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সেনা পাঠাবে না দক্ষিণ কোরিয়া
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সামরিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সেনা মোতায়েন না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত চাপের মুখেও দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং এই অবস্থান থেকে সরে আসেননি। গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে লি স্পষ্টভাবে জানান, এমন কোনো সামরিক মোতায়েন করা হবে না যা দক্ষিণ কোরিয়াকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধে প্রবেশের মতো কোনো ধরনের পদক্ষেপে তারা যাবে না এবং এ উদ্দেশ্যে কোনো সামরিক সরঞ্জামও মোতায়েন করা হবে না।
তবে আঞ্চলিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া। বর্তমানে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের নৌবাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। এ বিষয়ে লি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ, অপরিশোধিত তেল পরিবহন এবং সেখানে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্য দেশগুলোর মতো ন্যূনতম পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে সরকার হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, যদিও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ ধরনের পদক্ষেপের জনপ্রিয়তা বেশ কম।
ডনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থনকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছিলেন। এরই প্রেক্ষাপটে চলতি গ্রীষ্মে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর যৌথ মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা চলছে। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছিল, যার বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা রয়েছে। লি জানান, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্যাকেজের বাণিজ্যিক লাভজনকতা নিয়ে উদ্বেগই চুক্তির প্রধান বাধা। এছাড়া, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন লি, তবে তিনি জানান এর জন্য অনুকূল পরিস্থিতির প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, এমন কোনো সামরিক মোতায়েন করা হবে না, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।




























