বগুড়ার দেউলীতে যুবলীগ নেতাকে বিএনপির সদস্যসচিব করায় ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (18 September 2026) তারিখে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আলাদা হওয়া সদ্য গঠিত মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়ন বিএনপির নবঘোষিত কমিটিতে এক সাবেক যুবলীগ নেতাকে সদস্যসচিব করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে দেউলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে অনুমোদিত দেউলী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতেও জাহাঙ্গীর আলমের নাম ছিল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই যুবলীগ কমিটির একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই বিতর্ক শুরু হয়।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর দাবি, তিনি কখনোই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি জানান, ২০২০ সালে তিনি প্রবাসে চলে যান এবং দেশে ফিরে ২০২৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করতে হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যুবলীগের কমিটিতে তাঁর নাম থাকার কাগজটিকে তিনি ‘সম্পাদিত’ বা ভুয়া বলে দাবি করেছেন।
তবে জাহাঙ্গীর আলমের এই দাবির সঙ্গে একমত নন তাঁর নিজেরই পরিষদের সহকর্মীরা। দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম অনেক আগে থেকেই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যুবলীগের কমিটিতেও তাঁর নাম রয়েছে।’ একই পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী মেহেদুল ইসলামও জানান, জাহাঙ্গীর আলম যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা স্থানীয়ভাবে সবাই জানেন।
এর আগে গত ২ আগস্ট মোকামতলা উপজেলা বিএনপির ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। মাহমুদ হাসান তৌফিককে আহ্বায়ক, মাহবুব আলম মানিককে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রোকনুদ্দৌলা রুবেলকে সদস্যসচিব করে গঠিত ওই কমিটিতে জাহাঙ্গীর আলমকে ২৬ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোকামতলা উপজেলার কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা দলের জন্য নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে। এতে দলের তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মানিক বলেন, ‘জাহাঙ্গীরকে আমি আগে চিনতাম না, একটি ইফতার মাহফিলে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তিনি যুবলীগ করতেন কি না তা আমার জানা নেই। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছিলেন।’




























