ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিলাইছড়িতে বিজিবির হেফাজত থেকে ২ ভারতীয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বিশু, সম্পাদক ওয়াহেদ খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩

মহান শিক্ষা দিবস আজ, শ্রদ্ধায় স্মরণ ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, সেই আত্মত্যাগের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর, যখন পাকিস্তান সরকার শিক্ষাসচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চারজন শিক্ষাবিদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

শরীফ কমিশনের ওই প্রতিবেদনে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও স্বল্প খরচে শিক্ষা প্রদানের বিরোধিতা এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে উন্নীত করার মতো বিতর্কিত সুপারিশ ছিল সেখানে। এমনকি উর্দুকে পাকিস্তানের জনগণের ভাষা করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল। এসব সুপারিশকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষা সংকোচন এবং বৈষম্য সৃষ্টির পাঁয়তারা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

১৯৬২ সালের আগস্ট মাস থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হতে থাকে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক সভায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। হরতালের দিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং শুরু করেন, যার সঙ্গে পরবর্তীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনে যুক্ত হন।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঢাকায় এসে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর গোলাম ফারুকের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে শরীফ কমিশনের বিতর্কিত প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত করা হলে আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। শিক্ষার অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের সেই লড়াইয়ের স্মৃতি আজ বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

মহান শিক্ষা দিবস আজ, শ্রদ্ধায় স্মরণ ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলন

আপডেট সময় : ১১:১৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, সেই আত্মত্যাগের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর, যখন পাকিস্তান সরকার শিক্ষাসচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চারজন শিক্ষাবিদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

শরীফ কমিশনের ওই প্রতিবেদনে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও স্বল্প খরচে শিক্ষা প্রদানের বিরোধিতা এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে উন্নীত করার মতো বিতর্কিত সুপারিশ ছিল সেখানে। এমনকি উর্দুকে পাকিস্তানের জনগণের ভাষা করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল। এসব সুপারিশকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষা সংকোচন এবং বৈষম্য সৃষ্টির পাঁয়তারা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

১৯৬২ সালের আগস্ট মাস থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হতে থাকে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক সভায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। হরতালের দিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং শুরু করেন, যার সঙ্গে পরবর্তীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনে যুক্ত হন।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঢাকায় এসে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর গোলাম ফারুকের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে শরীফ কমিশনের বিতর্কিত প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত করা হলে আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। শিক্ষার অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের সেই লড়াইয়ের স্মৃতি আজ বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin