র্যাবের নতুন নাম এসআরবি: লোগোর বদলে কি আচরণ বদলাবে?
- আপডেট সময় : ১০:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

র্যাব বিলুপ্ত করে তার জায়গায় নতুন বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি যাত্রা শুরু করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশের পরদিন থেকেই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনী প্রধান আহসান হাবীব পলাশ। তবে নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বাহিনীর লোগো, ইউনিফর্ম ও পতাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, কেবল নাম বদলে কি সত্যিই প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তন সম্ভব?
র্যাবের দীর্ঘ দুই দশকের কর্মকাণ্ডে সাফল্য ও বিতর্কের পাশাপাশি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ২০২৫ সালের অনুসন্ধান এবং গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও বাহিনীটি বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই বাহিনীটির কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় প্রশ্ন ওঠে। এখন এসআরবি গঠনের মাধ্যমে সরকার নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বজায় রাখার যুক্তি দেখাচ্ছে।
নতুন আইনের আওতায় র্যাবের জনবল, সম্পদ, নথি, তহবিল ও দায়দায়িত্ব এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি পুরনো বাহিনীতে চলমান বিভাগীয় ও আইনি কার্যক্রমও নতুন কাঠামোতে বজায় থাকবে। এই সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা নিয়েই সমালোচকদের প্রধান আপত্তি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানের জনবল ও অবকাঠামো অপরিবর্তিত রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করলে প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত করা কঠিন। তবে কোনো বাহিনীর অভিজ্ঞ জনবল বা প্রযুক্তি রাতারাতি বাতিল করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মত রয়েছে। আসল পরীক্ষা হলো, এই সক্ষমতা কোন নিয়মে এবং কতটা জবাবদিহির সাথে ব্যবহার করা হবে।
এসআরবির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া। গ্রেপ্তার, অভিযানে বলপ্রয়োগ, মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত এবং বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কতটা স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, তা-ই নির্ধারণ করবে নতুন এই বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা। অভিযোগ কমিটি থাকলেও জবাবদিহি তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন নিজের বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
প্রশিক্ষণের চেয়ে কমান্ড সংস্কৃতির পরিবর্তন বেশি জরুরি। বাহিনীর সদস্যরা যদি মনে করেন ক্ষমতার দাপটে জবাবদিহি এড়ানো সম্ভব, তবে সেরা প্রশিক্ষণও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাই সংস্কারকে কেবল লোগো বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষমতার সাথে নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য তৈরি করাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক শর্ত। মানুষ কেবল নতুন সাইনবোর্ড নয়, বরং আচরণের পরিবর্তন দেখতে চায়। এসআরবি কি র্যাবের পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে—তার প্রমাণ মিলবে সময়ের সাথে, প্রথম কোনো বড় অভিযানে বা বিতর্কিত ঘটনায় বাহিনীর পদক্ষেপের মাধ্যমেই।


























