ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

তিস্তার পাড় থেকে বিশ্ববাজারে মুসনাদের ৯০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রংপুরের গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষক পরিবারের সন্তান মুসনাদ ই আহমেদ। ছোটবেলায় তিস্তার বাতাস আর কুয়াশাভেজা মাঠের মাঝে বড় হওয়া এই তরুণ কখনোই ভাবেননি যে, একদিন তাঁর জীবনের গল্প তথ্যপ্রযুক্তি খাতের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরহুম সাদেকুল ইসলাম এবং মা মোছা. কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে তিনি সততা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা পেয়েছেন। ২০০২ সালে ঢাকার কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় তাঁর জীবনে বড় আঘাত আসে—পরীক্ষার তিন মাস আগে বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় সংসারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।

পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে আয়ের অনিশ্চয়তা কাটাতে তিনি রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকায় পড়ার পাশাপাশি টিউশনি ও কোচিং সেন্টারে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে স্নাতক শেষ করা মুসনাদ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে কম্পিউটার ও ইংরেজি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন। বাসে যাতায়াতের সময় সাইনবোর্ডের ইংরেজি উচ্চারণ চর্চা করা এই তরুণ ২০০৮ সালে মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে একটি কল সেন্টারে কাস্টমার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে টেলিমার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসের কাজ করে প্রথম ৪০০ ডলার আয় করেন, যা তাঁকে বিশ্ববাজারে কাজ করার আত্মবিশ্বাস দেয়।

২০১৩ সালে দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় ও ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণে তিনটি ল্যাপটপ নিয়ে তিনি ‘স্কাইটেক সলিউশনস’ যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিনগুলোয় গ্রাহক পাওয়া, দক্ষ কর্মী তৈরি করা ও আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জন—প্রতিটি ধাপই ছিল কঠিন পরীক্ষা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনে একের পর এক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৪৫ জন কর্মীর প্রতিষ্ঠান নেমে আসে মাত্র ৯ জনে। সেই চরম সংকটে নিজের ১০ লাখ টাকার এফডিআর ভেঙে তিনি নতুন করে শুরু করেন। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই বদলে দেয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৯০০-এর বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপিও ও তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর সেবা (আইটিইএস) প্রদান করছেন। গত জুন মাসে চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’-এ মুসনাদ ই আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানান, প্রযুক্তি নয়, মানুষের দক্ষতাই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। একসময় নিজে কল সেন্টারে চাকরি করা মুসনাদ এখন এই জনবল ৩ হাজারে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখছেন এবং দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তার পাড় থেকে বিশ্ববাজারে মুসনাদের ৯০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষক পরিবারের সন্তান মুসনাদ ই আহমেদ। ছোটবেলায় তিস্তার বাতাস আর কুয়াশাভেজা মাঠের মাঝে বড় হওয়া এই তরুণ কখনোই ভাবেননি যে, একদিন তাঁর জীবনের গল্প তথ্যপ্রযুক্তি খাতের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরহুম সাদেকুল ইসলাম এবং মা মোছা. কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে তিনি সততা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা পেয়েছেন। ২০০২ সালে ঢাকার কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় তাঁর জীবনে বড় আঘাত আসে—পরীক্ষার তিন মাস আগে বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় সংসারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।

পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে আয়ের অনিশ্চয়তা কাটাতে তিনি রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকায় পড়ার পাশাপাশি টিউশনি ও কোচিং সেন্টারে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে স্নাতক শেষ করা মুসনাদ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে কম্পিউটার ও ইংরেজি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন। বাসে যাতায়াতের সময় সাইনবোর্ডের ইংরেজি উচ্চারণ চর্চা করা এই তরুণ ২০০৮ সালে মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে একটি কল সেন্টারে কাস্টমার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে টেলিমার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসের কাজ করে প্রথম ৪০০ ডলার আয় করেন, যা তাঁকে বিশ্ববাজারে কাজ করার আত্মবিশ্বাস দেয়।

২০১৩ সালে দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় ও ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণে তিনটি ল্যাপটপ নিয়ে তিনি ‘স্কাইটেক সলিউশনস’ যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিনগুলোয় গ্রাহক পাওয়া, দক্ষ কর্মী তৈরি করা ও আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জন—প্রতিটি ধাপই ছিল কঠিন পরীক্ষা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনে একের পর এক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৪৫ জন কর্মীর প্রতিষ্ঠান নেমে আসে মাত্র ৯ জনে। সেই চরম সংকটে নিজের ১০ লাখ টাকার এফডিআর ভেঙে তিনি নতুন করে শুরু করেন। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই বদলে দেয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৯০০-এর বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপিও ও তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর সেবা (আইটিইএস) প্রদান করছেন। গত জুন মাসে চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’-এ মুসনাদ ই আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানান, প্রযুক্তি নয়, মানুষের দক্ষতাই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। একসময় নিজে কল সেন্টারে চাকরি করা মুসনাদ এখন এই জনবল ৩ হাজারে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখছেন এবং দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo