
রংপুরের গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষক পরিবারের সন্তান মুসনাদ ই আহমেদ। ছোটবেলায় তিস্তার বাতাস আর কুয়াশাভেজা মাঠের মাঝে বড় হওয়া এই তরুণ কখনোই ভাবেননি যে, একদিন তাঁর জীবনের গল্প তথ্যপ্রযুক্তি খাতের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরহুম সাদেকুল ইসলাম এবং মা মোছা. কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে তিনি সততা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা পেয়েছেন। ২০০২ সালে ঢাকার কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় তাঁর জীবনে বড় আঘাত আসে—পরীক্ষার তিন মাস আগে বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় সংসারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।
পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে আয়ের অনিশ্চয়তা কাটাতে তিনি রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকায় পড়ার পাশাপাশি টিউশনি ও কোচিং সেন্টারে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে স্নাতক শেষ করা মুসনাদ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে কম্পিউটার ও ইংরেজি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন। বাসে যাতায়াতের সময় সাইনবোর্ডের ইংরেজি উচ্চারণ চর্চা করা এই তরুণ ২০০৮ সালে মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে একটি কল সেন্টারে কাস্টমার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে টেলিমার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসের কাজ করে প্রথম ৪০০ ডলার আয় করেন, যা তাঁকে বিশ্ববাজারে কাজ করার আত্মবিশ্বাস দেয়।
২০১৩ সালে দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় ও ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণে তিনটি ল্যাপটপ নিয়ে তিনি ‘স্কাইটেক সলিউশনস’ যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিনগুলোয় গ্রাহক পাওয়া, দক্ষ কর্মী তৈরি করা ও আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জন—প্রতিটি ধাপই ছিল কঠিন পরীক্ষা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনে একের পর এক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৪৫ জন কর্মীর প্রতিষ্ঠান নেমে আসে মাত্র ৯ জনে। সেই চরম সংকটে নিজের ১০ লাখ টাকার এফডিআর ভেঙে তিনি নতুন করে শুরু করেন। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই বদলে দেয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।
বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৯০০-এর বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপিও ও তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর সেবা (আইটিইএস) প্রদান করছেন। গত জুন মাসে চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’-এ মুসনাদ ই আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানান, প্রযুক্তি নয়, মানুষের দক্ষতাই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। একসময় নিজে কল সেন্টারে চাকরি করা মুসনাদ এখন এই জনবল ৩ হাজারে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখছেন এবং দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২