স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার পরিকল্পিত প্রবণতা দেখছে জামায়াত
- আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণার পরপরই সরকারের আপত্তির মুখে সেখান থেকে সরে আসার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নানা প্রশাসনিক ও অন্যান্য অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার একটি পরিকল্পিত প্রবণতা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর ফলে অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত হলে জনগণের ভোটাধিকার, স্থানীয় গণতন্ত্র ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব আরও পিছিয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে সম্পন্ন করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্বাচন ১২ নভেম্বর এবং শেষ ধাপের নির্বাচন ২৭ মে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রকাশ্যে ওই সময়সূচি নিয়ে আপত্তি জানান। এরপরই ইসি তার ঘোষিত রূপরেখাকে ‘পুরোপুরি প্রাথমিক’ বলে পুনর্ব্যাখ্যা করে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার কথা জানায়। গোলাম পরওয়ারের মতে, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যদি সরকারের আপত্তি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের ভোটাধিকার নিঃসন্দেহে হুমকির মুখে পড়ে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে যদি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়, তাহলে জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বর্তমান সরকারের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান আইন ও নীতি পরিবর্তন করে একদলীয়ভাবে সরকারদলীয় লোকদের জিতিয়ে আনার অপকৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর মাধ্যমে ‘মাগুরার স্টাইলে’ নির্বাচনের প্লট তৈরি করে বিরোধী দলকে নির্বাচন বর্জনের বাধ্যবাধকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি না। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের সুপারিশকে তিনি সংবিধানবিরোধী ও চরম বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেখানে বহু কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকেরা সংসদ সদস্য হয়েছেন, সেখানে স্থানীয় নির্বাচনে এমন সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য।
জামায়াতের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি জানানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং কোনো মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী বা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যাতে কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে তারা দ্রুত একটি সুস্পষ্ট, চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানায়। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষায় সরকারের প্রকাশ্য নিশ্চয়তা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করা।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এসময় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





























