নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ৪৬৩১ কোটি টাকা ভর্তুকি চায় বিদ্যুৎ বিভাগ
- আপডেট সময় : ১১:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর আরএনপিএল এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়জনিত ঘাটতি মেটাতে ৪ হাজার ৬৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বকেয়া ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। জাতীয় স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) এই অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিপিডিবি বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত ও নেপাল থেকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে বড় গ্রাহকদের কাছে কম দামে বিক্রি করছে। এতে সংস্থাটির যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা রাজস্ব বাজেট থেকে সহায়তা দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। এই সহায়তার মাধ্যমেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধ এবং জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
পটুয়াখালীর আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং দুটি ইউনিটের যৌথ বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ ২৮ মে ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। একইভাবে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন ২৯ আগস্ট ২০২৪ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘাটতি মেটাতেও এই অর্থ প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানিয়েছে, আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং কয়লার মজুত নিশ্চিত করতে অর্থের প্রয়োজন। জানা গেছে, ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও আরএনপিএলের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল বাস্তবায়ন চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। কেন্দ্রটির ঋণের প্রথম কিস্তির আসল ও সুদ বাবদ ১৩৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, গত ২৫ মার্চ পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। এ কিস্তির আসল ও সুদ বাবদ ১৩৬ দশমিক ১৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৬৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে। এই অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে সার্বভৌম নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে ঋণখেলাপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সোলায়মান জানান, অর্থ বিভাগের কাছে এই ভর্তুকির অর্থ চাওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, এই অর্থ পাওয়া গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে, যা লোডশেডিং কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।





























